প্রগতি ত্রিপুরা, ০৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬: ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তির সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং রুশ আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বানের কারণে পুনরায় আলোচনা শুরু করা আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাশিয়ার সুদূর পূর্বে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ শান্তি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সংশ্লিষ্ট দেশগুলো—অর্থাৎ রাশিয়া এবং ইউক্রেনকেই করতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, বেসামরিক বাণিজ্য জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলা এবং বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে কথিত হুমকির মতো ঘটনাগুলো ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল’। সূত্র ডিডি নিউস। তার মতে, এসব পদক্ষেপ দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলছে।
চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিমান সংস্থা এবং বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে জানান যে ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইউক্রেন কেবল রুশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।
এর আগে গত বুধবার জাতিসংঘের বিমান চলাচল সংস্থাকে রুশ আকাশসীমায় বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায় ইউক্রেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে দেশটির নিজস্ব আকাশসীমা অনিরাপদ থাকায় ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ বা ফ্রন্টলাইনের পরিস্থিতি মূলত অপরিবর্তিত রয়েছে এবং গত ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো ধরনের শান্তি আলোচনা হয়নি। দুই পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দীর্ঘপাল্লার বিমান হামলা বাড়িয়েছে এবং বাণিজ্যিক বন্দর ও জাহাজে হামলার মধ্য দিয়ে সামুদ্রিক যুদ্ধের তীব্রতাও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুতিন জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। তবে এটি একা আমাদের ওপর নির্ভর করে না, মার্কিন পক্ষের সদিচ্ছার ওপরও এটি নির্ভরশীল।”
রাশিয়ান ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের মাধ্যমেও উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ মস্কোয় রুশ গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করলেও উভয় পক্ষই সেই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও কিছু প্রকাশ করেনি।








