ডিজিপি অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ‘সুইসাইড নোট’ বিতর্ক: ত্রিপুরা বিধানসভায় তুলকালাম, সুদীপ বহিষ্কৃত

প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১আগস্ট, ২০২৬: ত্রিপুরা পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শকের (ডিজিপি) অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং তাঁর রহস্যজনক ‘সুইসাইড নোট’ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য বিধানসভা। সোমবার অধিবেশন চলাকালীন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা তৈরি হয়। ঘটনার জেরে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে একদিনের জন্য বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া।

অধিবেশনের শুরু থেকেই প্রাক্তন ডিজিপির মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হন বিরোধী বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিধায়কের দাবি, প্রাক্তন পুলিশ প্রধানের মৃত্যুর কারণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার প্রকৃত তথ্য আড়াল করছে। বিধানসভার নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষ তাঁকেই একদিনের জন্য বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। বহিষ্কারের পর অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস বিধায়ক জানান, অধ্যক্ষ তাঁর পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুদীপ রায় বর্মন বিস্ফোরক দাবি পেশ করেন। তিনি জানান, প্রাক্তন ডিজিপির স্ত্রী সম্প্রতি রাজ্যে এসে পুলিশের কাছে সুইসাইড নোটের প্রতিলিপি চান। তবে তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়, এমন কোনো নোটের সন্ধান মেলেনি।

কিন্তু নিহতের পরিবার সূত্রের খবর উল্লেখ করে সুদীপবাবু দাবি করেন, মৃত্যুর কিছু সময় আগে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যা মূলত একটি সুইসাইড নোট। প্রশ্ন উঠছে—যদি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে, তবে তদন্তকারী সংস্থার হাতে সেই নথি কেন পৌঁছায়নি? আর যদি পৌঁছেও থাকে, তবে তা গোপন করা হচ্ছে কেন?

নিজের বিধায়ক পদ বাজি রেখে কংগ্রেস বিধায়ক সরাসরি অভিযোগ করেন, এই ঘটনা এবং সুইসাইড নোট লোপাটের সমস্ত বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর জানা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন ডিজিপির আত্মহত্যার পেছনে মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে এবং বিধানসভায় ভুল তথ্য পেশ করার পর তাঁর পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

ডিজিপির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে এই কথিত ‘সুইসাইড নোট’ নতুন এক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। তবে কংগ্রেস বিধায়কের তোলা এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সুইসাইড নোটটি আদৌ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে কি না, কিংবা তাতে কী তথ্য ছিল—তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে সচেতন মহল।

Leave a Comment