প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: রাজ্যে বিরোধী সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের নীতি ও আদর্শ যে একই সুতোয় গাঁথা, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনে তা আরও একবার প্রমাণিত হল। এমনটাই দাবি করল শাসকদল বিজেপি। মঙ্গলবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা ও মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।
সংবাদ সম্মেলনে রাজীব ভট্টাচার্য মূলত বিরোধী নেতৃত্বের সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপ ও মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন , সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে রাজ্যের প্রয়াত ডিজি-র অস্বাভাবিক মৃত্যু কাণ্ড নিয়ে সুদীপ রায় বর্মনের বক্তব্যের জেরে তাঁকে একদিনের জন্য বহিষ্কার করেন অধ্যক্ষ। এই ঘটনার পর বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর অবস্থানকে ‘মায়াকান্না’ আখ্যা দিয়ে বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, রাজ্য সরকারকে বদনাম করা এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই বিধানসভায় এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই বাম-কংগ্রেসের অলিখিত সমঝোতার স্বরূপ ফের প্রকাশ্যে এল।
মানিক সরকারের মন্তব্যের তোপ: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের ‘জঙ্গি আন্দোলন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “জঙ্গি আন্দোলন এবং খুন-সন্ত্রাসের রাজনীতিই হল সিপিআইএমের মূল আদর্শগত অবস্থান।” এই ধরনের হিংসার রাজনীতিকে সম্বল করেই বামেরা ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অতীতের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ: রাজ্য রাজনীতিতে বামশাসনের সময়ের নানা অপ্রীতিকর ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, ১৯৮০ সালের মান্দাইয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার চাইলে অনায়াসেই রুখতে পারত, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে তা করা হয়নি। এছাড়া পূর্বতন বাম জামানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এসডিএম (SDM) হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিরোধীদের অতীত শাসনের রেকর্ড নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিরোধীদের এই রাজনৈতিক চক্রান্তের জবাব দিতে আগামী দিনে তাদের আসল রূপ জনগণের সামনে উন্মোচিত করবে বলেও ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।








