প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পারিবারিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত স্বামী অনুপ সাহাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা ঘোষণা করলেন খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালত। খোয়াই মহিলা থানা ভিত্তিক কেস নম্বর ১৫/২০২৪-এর শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা বিচারক মানবেন্দ্র দেববর্মা এই রায় প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আগরতলা লঙ্কামুড়ার বাসিন্দা জয়া দাসের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অনুপ সাহা। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ সমস্ত দাবি পূরণ করা হলেও, পরবর্তী সময়ে জয়া দাসের ওপর শুরু হয় চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে জয়া দাসের বাবা খোয়াইয়ে অনুপ সাহার নামে দুই গণ্ডা জমি দলিল করে দেন। তা সত্ত্বেও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি।
গত ১৩ মে, ২০২৪ তারিখে উত্তর দুর্গানগরে অনুপ সাহার বাড়িতে একটি সালিশি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে জয়া দাস তার শিশুকন্যাকে নিয়ে পৃথকভাবে বাবার বাড়িতে থাকবেন। কিন্তু সভা শেষ হতেই অনুপ সাহা ঘর থেকে দা এনে স্ত্রীর মাথায় সজোরে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় জয়া দাসকে খোয়াই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ঘটনার পরই জয়া দাসের ভাই শ্যামল দাস খোয়াই মহিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর সম্পা দাস। তিনি তদন্ত শেষে গত ৩১ মে, ২০২৪ তারিখে আদালত চার্জশিট (নম্বর ১৩/২০২৪) জমা দেন।
আদালতে মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিচারক মানবেন্দ্র দেববর্মা আসামিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (এ) ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড) এবং ৩০৭ ধারায় (প্রাণনাশের চেষ্টা) ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা (অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড) প্রদান করেন। মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (Public Prosecutor) অভিজিৎ ভট্টাচার্য।








