উদ্বোধনের আগে স্কুল বিল্ডিং-এ ফাটল! বাগবাসা বিধাসভার কালাছড়া পিএম-শ্রী বিদ্যালয়ে!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ত্রিপুরার উত্তর জেলার বাগবাসা বিধানসভা এলাকার কালাছড়া পিএম-শ্রী বিদ্যালয়ের নবনির্মিত তিতল ভবন উদ্বোধনের আগেই একাধিক অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাজ নিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জেলাশাসক এবং আরডি দপ্তরে আরটিআই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখনও পর্যন্ত ওই আবেদনের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, প্রায় ৮ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিতল ভবনটির নির্মাণকাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। এদিকে, ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আরটিআই আবেদন জমা পড়ার পর ভবনের বিভিন্ন অংশে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্রদীপ ভট্টাচার্য নিম্নমানের কাজের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করলেও, নির্মাণকাজে ঠিক কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সদস্য আবদুল কাদির জানান, আগের প্রধান শিক্ষকের সময় ভবন নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক বদলি হয়ে যাওয়ার পর সেই মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে তাঁর অভিযোগ। এরপর থেকেই নির্মাণকাজ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। আবদুল কাদিরের আরও দাবি, ভবনটি এখনও হ্যান্ডওভার না হলেও চারটি কোণসহ বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। আরটিআই আবেদন জমা পড়ার পরই মেরামতির কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠছে।

তাঁর বক্তব্য, নির্মাণকাজে সত্যিই নিম্নমানের সামগ্রী বা অনিয়ম হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা জরুরি। কারণ, ভবিষ্যতে এই ভবনেই এলাকার বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করবে। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা হলে তার দায়ভার কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে নিম্নমানের কাজ করিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে কোনও প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও সামনে আসেনি।

নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে নির্মাণকাজের গুণমান পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গোটা বিষয়টির সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Comment