প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১ মার্চ, ২০২৬: মঙ্গলবার জৈন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে আগরতলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ভগবান মহাবীর-এর ২৬২৫তম জন্মবার্ষিকী।
এদিন মহাবীর ধর্মীয় ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে আগরতলা টাউন হল সংলগ্ন জৈন মন্দিরে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জৈন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ এবং সমাজের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সকাল থেকে সারা দেশের সঙ্গে আগরতলার জৈন মন্দিরেও ভক্তরা পূজা, অর্চনা, আরতি, আবৃত্তি, ধর্মীয় গান, ভজন ও কীর্তনের মাধ্যমে ভগবান মহাবীরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাবীর ধর্মীয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তরুন কুমার জৈন বলেন, জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন তীর্থঙ্কর রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ভগবান মহাবীর শেষ তথা ২৪তম তীর্থঙ্কর।
জৈন ধর্ম অনুযায়ী তীর্থঙ্কর অর্থ ‘অরিহন্ত’—যিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেই জ্ঞান মানব সমাজের কল্যাণে প্রচার করেন।
তিনি আরও বলেন, জৈন ধর্ম সহজ, সরল, ব্যবহারিক এবং বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। জৈন ধর্মাবলম্বীরা নিরামিষভোজী হন, সূর্যাস্তের আগে খাদ্য গ্রহণ করেন এবং সিদ্ধ গরম জল পান করেন—যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
তরুন কুমার জৈন বলেন, হাজার হাজার বছর আগেই জৈন তীর্থঙ্কররা বিশ্বাস করতেন যে গাছপালাতেও প্রাণ রয়েছে এবং তাদেরও অনুভূতি আছে। তারা শব্দদূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার বিষয়েও সচেতনতার কথা বলেছিলেন।
জৈন তীর্থঙ্করদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পশু, পাখি, কীটপতঙ্গসহ কোনো জীব বা গাছপালার ক্ষতি করা উচিত নয়। তাদের শিক্ষা মানবতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সকল জীবের কল্যাণের বার্তা বহন করে।
তিনি জানান, জৈন ধর্মে সর্বধর্ম সমন্বয় ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা “বসুধৈব কুটুম্বকম” তত্ত্বের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। জৈন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান মন্ত্র নওকার মন্ত্র-এ জগতের সমস্ত অরিহন্ত, সিদ্ধ, আচার্য ও সাধুদের প্রতি প্রণাম জানিয়ে সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
জৈন সম্প্রদায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সমতা ও সৌহার্দ্যের বার্তা প্রচার করে এবং অন্যান্য ধর্মের ইতিবাচক শিক্ষাকেও সমানভাবে সম্মান জানায়।








