প্রগতি ত্রিপুরা, ১৩ জুন, ২০২৬: সরকারের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প যখন প্রতিটি ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, ঠিক তখনই উল্টো চিত্র দেখা গেল কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়া এলাকায়। নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাড়ার মানুষের পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল খোদ পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে। জলের জন্য এখন হাহাকার চলছে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঞ্চনমালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নং ওয়ার্ডের পঞ্চায়েত সদস্যা হানুফা খাতুনের বাড়িতে সরকারিভাবে একটি জলের মেশিন বসানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, পাড়ার সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই পানীয় জলের সুবিধা পান। বেশ কিছুদিন পাড়ার মানুষ সেই জল ব্যবহারও করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, গত ৫-৬ দিন আগে পঞ্চায়েত সদস্যা হানুফা খাতুন হঠাৎ করেই পাড়ার মানুষদের জন্য জল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। অথচ, নিজের পরিবারের জন্য সেই সরকারি জলের ব্যবস্থা তিনি বহাল তবিয়তে চালু রেখেছেন।
পাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলের মেশিনের বিদ্যুৎ বিলের খরচ ভাগ করে দেওয়ার জন্য তারা পঞ্চায়েত সদস্যার কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু হানুফা খাতুন সেই বিদ্যুৎ বিলের টাকা গ্রহণ করতে সাফ অস্বীকার করেন এবং জল দেওয়া বন্ধ রাখেন। পঞ্চায়েত সদস্যার এমন স্বেচ্ছাচারী ও অমানবিক ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছেন ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
শনিবার সকালে এলাকার ভুক্তভোগী ও ক্ষুব্ধ মানুষজন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারস্থ হন। নিজেদের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরে তারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন—
“সরকার ঘরে ঘরে জল দেওয়ার ব্যবস্থা করছে, আর এখানে আমরা টাকা দিতে চেয়েও জল পাচ্ছি না। এই তীব্র গরমে আমাদের দূর-দূরান্ত থেকে উঁচু টিলা পেরিয়ে পানীয় জল বয়ে আনতে হচ্ছে।”
এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো জনপ্রতিনিধি সরকারি সম্পত্তিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে রাখতে পারেন না। অবিলম্বে যেন তদন্ত করে কাঞ্চনমালা মুসলিম পাড়ার সাধারণ মানুষের জন্য পানীয় জলের সুব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।







