প্রগতি ত্রিপুরা, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫: ফাঁকা বাড়িতে চোরের দুঃসাহসিক হানা! সোনা ও নগদসহ প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক!! রাত্রীকালীন পুলিশি টহল জোরদারের দাবি। গৃহস্থের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল চুরাইবাড়ি থানাধীন পূর্ব চুরাইবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।
ফাঁকা বাড়িকে নিশানা করে চোরের দল সোনা-গয়না ও নগদ অর্থসহ প্রায় দুই লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট করে নিয়ে পালিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটা নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য নীতিশ দাস ও তাঁর স্ত্রী পাপিয়া দাস পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ির তিনটি ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান।
তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগেই চোরের দল বাড়িতে হানা দেয় বলে অভিযোগ। প্রায় রাত আটটা নাগাদ বাড়িতে ফিরে এসে গৃহিণী পাপিয়া দাস দেখতে পান, তিনটি ঘরের দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেই তাঁর চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য—ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র এলোমেলো, আলমারি ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
চোরেরা ঘর থেকে নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা, সোনা-গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে জানান তিনি।ঘটনার পরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং সঙ্গে সঙ্গে চুরাইবাড়ি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বয়ান লিপিবদ্ধ করে।
পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা বাড়িগুলিকেই বিশেষভাবে টার্গেট করছে চোরেরা।
ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—চোরেরা কীভাবে আগাম জানতে পারছে কোন বাড়ি ফাঁকা রয়েছে? তাহলে কি কোনো সংগঠিত চোরচক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা হোয়াটসঅ্যাপ বা অনুরূপ ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে এই চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে?
উল্লেখযোগ্য যে, কিছুদিন আগেও এই ধরনের একাধিক চুরির ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর কিছুদিন চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় চুরির ঘটনা কমে আসে এবং পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
তবে ফের একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি চুরি যাওয়া সামগ্রী দ্রুত উদ্ধারের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে—চুরাইবাড়ি থানা এলাকায় বিশেষ করে রাত্রীকালীন পুলিশি টহল অবিলম্বে জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও নিরাপত্তার আশ্বাস পান।







