মুখ্যমন্ত্রী দেওয়া বক্তব্য সত্য : আমরা বাঙালি

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫। ৮ই অক্টোবর দক্ষিণ ত্রিপুরা শান্তিরবাজার মহকুমার বগাফা ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে রিয়াং জনগোষ্ঠীর ৩৩ তম হজগিরি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা মহোদয় বলেন যে ত্রিপুরার জনজাতি গোষ্টির মধ্যে রিয়াংরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী তারা বহু আগে বর্তমান বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এ রাজ্যে এসেছে।

দেখা যাচ্ছে গত কয়েক দিন ধরে শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীর এই সত্য ভাষণের পর এ রাজ্যের উপজাতি সমাজ বিশেষ করে রিয়াং জনগোষ্ঠী একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নোতুন করে গো ব্যাক বাংলাদেশী স্লোগান তুলে রিয়াং জনগোষ্ঠীকে বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপাতে শুরু করেছে অনুমান এই ইস্যুতে ত্রিপুরার উপজাতি জনসমাজের অন্যান্যরা তলে তলে সমর্থন জোগালেও শাসক বিজেপি সহ সিপিএম কংগ্রেস সহ সব কটি দল চুপ হয়ে আছে কিন্তু কেন, উপজাতি ভোেট হারাবার ভয়। এ যে এক ধরনের তোষণ নীতি।

রাজ্যের রাজনীতি যদি এভাবে তোষণ নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পথ ধরে চলতে থাকে তবে সত্য ইতিহাস যেমন মিথ্যার চাপে একদিন হারিয়ে যাবে পরিনামে ত্রিপুরার বৃহত্তম জনগোষ্ঠী বাঙালীর হবে সর্বনাশ। ইতিহাস তথা ট্রাইবেল রিসার্চ এন্ড কালচারাল ইন্সটিটিউট এর মতে রিয়াংরা প্রথমে উত্তর বার্মার শান রাজ্য বর্তমান মায়ানমার থেকে ভারতে আসে তারা ত্রিপুরা ছাড়াও বর্তমান অসম ও মিজোরামের মত উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলিতে বসবাস করছে অন্য মতে তাদের আদি উৎস ছিল মঙ্গোলীয় গোষ্ঠীভুক্ত এবং তারা সম্ভবত মঙ্গলীয় থেকে বিভিন্ন ভাবে ভারতে আসে।

এই ইতিহাস কে না জানে যে, শুধু রিয়াং জনগোষ্ঠীই নয় ত্রিপুরা, চাকমা, মগ গাড়ো সহ উপজাতি সম্প্রদায়ের অনেকেই ছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও গাড়ো হিলের বাসিন্দা আর বাঙালীরা ছিল পার্বত্য ত্রিপুরার সমতল অংশ ও সমতল ত্রিপুরা তথ্য চাকলা রোশনাবাদের স্থায়ী বাসিন্দা দেশভাগ জনিত কারণ ও ত্রিপুরা ভারতভুক্তি জনিত কারণে জীবনসম্পত্তি ও ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষার তাগিদে পূর্বতন ত্রিপুরা তথা চাকলা রোশনাবাদের এক প্রান্তের মানুষকে অন্য প্রান্তে তথা বর্তমান ত্রিপুরাতে এসে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।

অবশ্যই দায়ী তৎকালীন জাতীয় ও ত্রিপুরার অ দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অথচ এখন এর দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপর ফল ও ভোগ করছে সাধারণ মানুষই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ত্রিপুরা ভারতভুক্তির আগে ১৯৩১ সালের সেন্সাসেই দেখা যায় বর্তমান ত্রিপুরা তথা পূর্বতন পার্বত্য ত্রিপুরায় প্রতি ১০০ জন জনসংখ্যার মধ্যে উপজাতি জনসংখ্যা যেখানে ছিল এক লক্ষ ৮৪হাজার ১১৭ জন সেখানে বাঙালী ছিল একলক্ষ ৭৪ হাজার ৩৩৩ জন আর্থাৎ বাঙালীরা ছিল বরাবরই সংখ্যাগুরু উপজাতিরা ছিল সংখ্যালঘু তারপর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মহারাজার বাঙ্গালী প্রজারা যেমনএ রাজ্যে এসেছে তেমনি পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে চাকমা, মগ, রিয়াং, গাড়ো নুয়াতিয়া ইত্যাদি জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এরাজ্যেএসেছে বরং দেখা গেছে ত্রিপুরা ভারত ভুক্তির পর অর্থাৎ ৫১ সাল হতে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৬০ বছরে ত্রিপুরাতে বাঙালী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৪৬০ শতাংশ।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথাগুলি জানান আমরা বাঙালি ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সচিব গৌরাঙ্গ চন্দ্র রুদ্রপাল।

Leave a Comment