অনলাইন ডেস্ক, ১৪ অক্টোবর,২০২৫: প্রবীণ ব্যক্তিরা সমাজের পথপ্রদর্শক। সমাজ ও সভ্যতা কিভাবে চলবে, কিভাবে এগিয়ে যাবে তার অন্যতম পরামর্শদাতা হলেন প্রবীণগণ। তারা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে সমাজে পরিচিত। তাই বর্তমান প্রজন্মকে তাদের পথ অনুসরণ করতে হবে। বর্তমান রাজ্য সরকার প্রবীণ নাগরিকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও তাদের কল্যাণে কাজ করছে।
সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিন্তু রায় আজ আগরতলা টাউনহলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ নাগরিক দিবস-২০২৫ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ১ অক্টোবর দিনটিকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিস্কু রায় বলেন, প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ নাগরিক দিবস পালন করা হয়। এবছর ১ অক্টোবর দুর্গোৎসব থাকায় ঐদিন প্রতিটি জেলা ও হোমে দিনটি প্রতীকী হিসেবে পালন করা হয়। তিনি বলেন, মা-বাবারা বহু কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেন। সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনীয়ার হিসেবে গড়ে তুলেন।
অথচ অনেক ছেলে-মেয়ে নিজের মা-বাবাকে দেখে না, খোঁজ খবর রাখে না। আমরা এ ভারত চাইনা। তিনি উপস্থিত বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, শুধু আইনী লড়াইয়ে অধিকার রক্ষা পাবে না, অনুরোধ করব আপনারা অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কার সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে সচেতন করুন, সৎ পরামর্শ দিন।
পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন, এ রাজ্যকে শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রবীণ ও নবীনদের একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, প্রবীণরা হলেন জ্ঞানের ভান্ডার। তিনি বর্তমান প্রজন্মকে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায় প্রবীণ নাগরিকদের কোন সমস্যা হলে বিনামূল্যে ১৪৫৬৭ জাতীয় হেল্প লাইনের সুবিধা গ্রহণের অনুরোধ জানান। ‘দ্য লিগ্যাল প্রভিশনস রিলেটেড টু রাইটস অফ সিনিয়র সিটিজেন’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডেপুটি ল সেক্রেটারি শঙ্খশুভ্র দত্ত।
অনুষ্ঠানে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শ্রেষ্ঠ ১০ বছর উর্দ্ধ প্রবীণ সম্মান অনুপ্রভা মজুমদারকে, জেলা শ্রেষ্ঠ ৭০ বছর উর্দ্ধ প্রবীণ কর্মজীবন সম্মান প্রমোদ লাল ঘোষকে, জেলা শ্রেষ্ঠ ৬০ বছর উর্দ্ধ প্রবীণ সৃজনকলা সম্মান সুখিনী দেববর্মাকে এবং জেলা শ্রেষ্ঠ ৬০ বছর উর্দ্ধ প্রবীণ সাহসিকতা সম্মান শান্তিরঞ্জন মজুমদারকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। তাদের প্রত্যেককে স্মারক, শাল চাদর, ছাতা ও ৫ হাজার টাকার চেক দিয়ে সম্মান জানানো হয়।
এছাড়া এবছর দুর্গাপূজায় যে সকল ক্লাব প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলেছে এর মধ্যে মুক্তি সংঘকে ১ম পুরস্কার, আপনজন সংঘ ক্লাবকে ২য় পুরস্কার এবং চৌমুহনী সংঘকে ৩য় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়। ১ম পুরস্কার অর্জনকারী ক্লাবকে স্মারক, শংসাপত্র, ২০ হাজার টাকার চেক, ২য় পুরস্কার অর্জনকারী ক্লাবকে স্মারক, শংসাপত্র, ১৫ হাজার টাকার চেক এবং ৩য় পুরস্কার অর্জনকারী ক্লাবকে স্মারক, শংসাপত্র ও ১০ হাজার টাকার চেক দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়।
এছাড়াও পশ্চিম জেলার অবলম্বন, অভয়মিশন ও ভলান্টারি হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরা এই তিনটি হোমকে মেমেন্টো ও শংসাপত্র দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রীসহ অতিথিগণ তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্বাস্থ্য শিবিরে ২৭৯ জন প্রবীণ নাগরিকের চিকিৎসা করে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা তপন কুমার দাস। উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা ও পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দেব। সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা এল রাফুল।








