কংগ্রেস-বিজেপি মিলে পঞ্চায়েত গঠন কৈলাসহরের ফুলবাড়িকান্দি গ্রামে

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। দেশে কিংবা রাজ্যে রাজনৈতিক বাতাবরণ যাই হোক না কেন, কৈলাসহরে ব্যাতিক্রমী রাজনীতি অব্যাহত। আবারও কৈলাসহরে প্রকাশ্যে আরও এক গ্রাম পঞ্চায়েত কংগ্রেস এবং বিজেপি মিলে দখল করেছে। বিজেপি দলের পঞ্চায়েত সদস্যরা কংগ্রেস দলের প্রধানকে সমর্থন করে। ঘটনা কৈলাসহরের ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতে। উল্লেখ্য, কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অধীনস্হ এগারো আসন বিশিষ্ট ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েত। সর্বশেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের এগারো আসনের মধ্যে কংগ্রেস দল ছয়টি আসনে, সিপিআইএম দল তিনটি আসনে এবং বিজেপি দল দুটি আসনে জয়লাভ করেছিলো। পঞ্চায়েত ভোটের সময় কংগ্রেস এবং সিপিআইএম দল জোট করে লড়াই করেছিলো। এগারো আসনের মধ্যে ম্যজিক ফিগার ছিলো ছয়টি অর্থাৎ যে দল ছয়টি আসনে জয়ী হবে সেই দলই পঞ্চায়েত গঠন করবে। যদিও ভোটে কংগ্রেস দল একাই ছয়টি আসনে জয়লাভ করলেও জোটের স্বার্থে কংগ্রেস দলের পঞ্চায়েত সদস্যা রুপসানা বেগম প্রধান এবং সিপিআইএম দলের পঞ্চায়েত সদস্য মোসাইদ আলী উপ প্রধান হয়ে বিগত এক বছর ধরে পঞ্চায়েত চলছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে কংগ্রেস দলের ছয় পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে ময়না মিয়া নামে এক পঞ্চায়েত সদস্য এবং সিপিআইএম দলের তিন পঞ্চায়েত সদস্য এবং বিজেপি দলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য মিলে মোট ছয়জন পঞ্চায়েত সদস্য বিগত সাত জুলাই ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রুপসানা বেগমের বিরুদ্ধে অনাস্থা জমা দেয়।

প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার খবর চাউর হতেই পরবর্তী সময়ে ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মোসাইদ আলীর বিরুদ্ধেও অনাস্থা জমা দেয় পঞ্চায়েত সদস্যরা।

বিগত দুই মাস পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপ প্রধান না থাকায় পঞ্চায়েত এলাকায় কোনো ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ হয়নি।

ঊনকোটি জেলার জেলাশাসকের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চব্বিশ সেপ্টেম্বর বুধবার ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের আস্থা ভোট পঞ্চায়েত অফিসে অনুস্টিত হয়েছে।

সেই আস্থা ভোটে কংগ্রেস দলের ছয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং বিজেপি দলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত থাকলেও সিপিআইএম দলের তিনজন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে তিনজনই অনুপস্থিত ছিলেন।

আটজনের উপস্থিতিতে আস্থা ভোট শুরু হবার পর কংগ্রেস দলের পঞ্চায়েত সদস্যা রুপসানা বেগমকে প্রধান পদে কংগ্রেস দলের ছয়জন পঞ্চায়েত সদস্য হাত তোলে সমর্থন করার পাশাপাশি উপস্থিত বিজেপি দলের দুই পঞ্চায়েত সদস্যও কংগ্রেস দলের পঞ্চায়েত সদস্যা রুপসানা বেগমকে প্রধান পদে হাত তোলে সমর্থন করে।

পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েতের উপ প্রধান মোসাইদ আলীর বিরুদ্ধে কংগ্রেস দলের ছয়জন এবং বিজেপি দলের দুইজন পঞ্চায়েত সদস্য সহ উপস্থিত মোট আটজন পঞ্চায়েত সদস্যই ভোট দেয়।

এরফলে সিপিআইএম দলেr পঞ্চায়েত সদস্য মোসাইদ আলীর উপ প্রধান পদ খরিজ হয়ে যায়। এই সমস্ত খবর নিশ্চিত করেন ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সচিব সৌম্যব্রত দেব।

তবে, বিশেষ এক সূত্র মোতাবেক জানা যায় যে, আগামী কিছু দিনের মধ্যে কংগ্রেস দলের সমর্থনে ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান বিজেপি দলের দুই পঞ্চায়েত সদস্য থেকে হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস এবং বিজেপি দলের মধ্যে চির শত্রুতা থাকার পরও কৈলাসহরের ফুলবাড়িকান্দি গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেস এবং বিজেপি দল প্রকাশ্যে মিলে পঞ্চায়েত গঠন করায় কৈলাসহরে রাজনৈতিক পারদ চরম তুঙ্গে।

বিশেষ করে, মোদি চুর, গদি ছোড় এই স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মাসের আঠারো সেপ্টেম্বর কৈলাসহর শহরে কংগ্রেস দলের প্রকাশ্য জনসভায় বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারের এবং বিজেপি দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন বিধায়ক বিরজিত সিনহা।

আর এই জনসভার এক সপ্তাহের মধ্যেই কংগ্রেস এবং বিজেপি দল মিলে প্রধান নির্বাচিত করায় গোটা কৈলাসহরের মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে রুপসানা বেগম ফের প্রধান নির্বাচিত হবার পর দলীয় কর্মী সমর্থকরা রুপসানা বেগমের গলায় মালা পড়িয়ে পঞ্চায়েত এলাকায় বিজয় মিছিল সংগঠিত করে।

Leave a Comment