জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও মহকুমা খাদ্য দপ্তরের যৌথ অভিযানঃ স্কুল ক্যান্টিনে বিদেশি খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক, ২৯ জুলাই, ২০২৫: ধলাই জেলার আমবাসা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ফুড সেফটি অফিসার বিজয় ভট্টাচার্য ও আমবাসা মহকুমা খাদ্য দপ্তরের ইনস্পেক্টর জুয়েব বেটু-এর নেতৃত্বে ২৮ জুলাই গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে লালছড়ি এলাকার দুটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ক্যান্টিন ও এর সংলগ্ন দোকানসমূহে একটি যৌথ অভিযান করা হয়।

এই অভিযানে সেন্ট আর্নও ও সেন্ট জনস স্কুলের ক্যান্টিনসহ আশপাশের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি উৎপাদিত প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী (বিশেষত মায়ানমারের) উদ্ধার করে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস আইন, ২০০৬ এর সেকশন ২৭ এবং সেকশন ৫২ অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হয়।

যেগুলোর গায়ে ফুড সেফটি অ্যান্ড ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লাইসেন্স নম্বর উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ, মূল্য তালিকা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য লেখা ছিল না। এই উদ্ধারকৃত সামগ্রীর অধিকাংশই ছাত্রছাত্রীদের অনপ্রিয় খাবার, যার মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের শুকনো মাছ ভাজা, ফ্রাইড চিকেন, চকোলেট ইত্যাদি যার কোনও রকম ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যাম্পার্ড নেই।

এই সকল সামগ্রী কোনও ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ক্যান্টিনে বিক্রি হচ্ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন উপস্থিত ফুড সেফটি অফিসার। অভিযানে দেখা যায়, বহু সামগ্রীর মধ্যে ব্যবহৃত কোনো খাদা উৎপাদানের নাম উল্লেখ নেই এবং তা ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফুড সেফটি অফিসার বিজয় ভট্টাচার্য জানান, অভিযানে উদ্ধারকৃত সমস্ত অননুমোদিত খাদ্য সামগ্রী সরকারি নিয়ম মেনে ধ্বংস করা হবে। অভিযুক্ত ক্যান্টিন ও দোকান মালিকদের নোটিশ প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনবোধে জরিমানা অথবা মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলবে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই খাদ্য সামগ্রীসমূহ উত্তর জেলার দামহড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে এবং স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ রোধে প্রশাসন আরও কঠোর নজরদারি চালাবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও খাদ্য দপ্তর সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছে, তারা যেন কোনো ধরনের প্যাকেটজাত খাদ্য সামগ্রী ক্রয় বা গ্রহণের সময় পণ্যের গায়ে মেয়াদ, মূল্য, উৎপাদক ও লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে নেন এবং সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে নিকটস্থ খাদ্য দপ্তরে জানান। পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

Leave a Comment