খালি বাড়ি টার্গেট করে চোরের তাণ্ডব! আতঙ্কে সাধারণ মানুষ!!

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫: ত্রিপুরার উত্তর জেলায় খালি বাড়ি টার্গেট করে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গৃহস্থের বাড়ি ফাঁকা পেলেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাত সাফাই করছে চোরের দল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেন ‘নিনজা টেকনিক’ ব্যবহার করেই এই চোরের দল অপরাধ সংগঠিত করছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার নবমীর ভোররাতে ধর্মনগর সাব জেল থেকে ছয় জন কুখ্যাত আসামির পালানোর পর থেকেই চুরির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

যদিও পুলিশ তিনজনকে পুনরায় আটক করেছে, তবে বাকি তিনজন এখনো পুলিশের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তর জেলা জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ যতই তৎপরতার দাবি করুক, বাস্তবে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা কমছে না। উত্তর জেলা জুড়ে খালিঘর লক্ষ্য করে চুরির হিড়িক পড়েছে।

পূর্বে জানা গিয়েছিল, চোর-ডাকাতরা পুলিশ ও স্থানীয়দের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে বিশেষ ‘পুলিশ এলার্ট গ্রুপ’ তৈরি করেছিল। আবারও একই কৌশল ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে কদমতলা থানার দক্ষিণ কদমতলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিভা দাসের খালি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বোনের বাড়িতে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি।

সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখেন বারান্দার গ্রিল ভাঙা, মূল দরজা খোলা এবং ঘরের আলমারির লকার ভেঙে রাখা। মেয়ের বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা দেড় ভরির স্বর্ণের চেইন, রুপার অলঙ্কার, অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী এবং নগদ ১০ হাজার টাকা চুরি গেছে বলে জানান তিনি।

তার অভিযোগ—“চোরেরা খুব ভালো করেই জানে কোন বাড়ি খালি থাকে। পুলিশ এখনো একটি চোরকেও ধরতে পারেনি।” একইদিন কদমতলা কালীবাড়ি সংলগ্ন পরিতোষ দাসের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে।

গত শুক্রবার থেকে তিনি পরিবার সহ চিকিৎসার জন্য শিলচরে ছিলেন। মঙ্গলবার বাড়ি ফিরে দেখতে পান ঘরের দরজা ভাঙা এবং সর্বস্ব লুট করে নিয়েছে চোরেরা।

খবর পেয়ে পুলিশ পৃথকভাবে দুটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের বহু মামলার মতো এগুলোরও সুরাহা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

ক্রমাগত চুরির ঘটনায় কদমতলা এলাকা সহ গোটা উত্তর জেলায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাথে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

Leave a Comment