অনলাইন ডেস্ক, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ শুধুমাত্র একটি নীতিগত নথি নয়, এটি আমাদের সন্তানদের শিক্ষাদানের পদ্ধতিকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি করে। আজ সকালে আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নং হলে টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, আগরতলা আয়োজিত ‘আগাম ৬.০’ ও ‘শিক্ষক সম্মান-২০২৬’ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, এই নীতির লক্ষ্য ভারতীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ভারতকে একটি ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাণবন্ত জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরাসরি অবদান রাখবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষতাভিত্তিক এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করছে।
প্রচলিত প্রথাগত শিক্ষাদান এবং নিয়োগকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক দক্ষতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নব ভারত সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় ত্রিপুরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৯৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে প্রাক-প্রাথমিক বিভাগ চালু করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। এরফলে সমাজের সব অংশের শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি, সমস্ত বিদ্যাজ্যোতি বিদ্যালয়ে রোবোটিক্স ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
রাজ্যপাল বলেন, বিকশিত ভারত গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক মনোভাব, প্রশ্ন করার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর, প্রমাণ অনুসন্ধান করার এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা। একইসঙ্গে প্রয়োজন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা- নতুন সম্ভাবনার কথা কল্পনা করার এবং সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অধ্যবসায়। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতাকে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিটি ব্যর্থতাই আবিষ্কার ও সাফল্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসকদের উদ্দেশে রাজ্যপাল জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, আগরতলা মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অনুষ্ঠানে রাজ্য ও জেলা-স্তরের নিউমারিকেল কম্পিটিশনে স্থানাধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে রাজ্যপাল শংসাপত্র ও চেক তুলে দেন। এছাড়াও ত্রিপুরার বিভিন্ন আইটিআই এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষক ও অধ্যাপকদের তাঁদের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘শিক্ষক সম্মান’ শংসাপত্র প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টেকনো কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, আগরতলার অধ্যক্ষ এবং টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক দিবাকর দেব। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের কো-চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মানসী রায় চৌধুরী-ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।








