প্রগতি ত্রিপুরা, ২৫ মে, ২০২৬: চতুর্দিকে যখন শাসক দলের পক্ষ থেকে উন্নয়ন আর উন্নয়নের দাবি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মধুপুর বাজারের চিত্রটা যেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং করুণ বাস্তবকে তুলে ধরছে। রাজ্যে এবং দেশে ‘ত্রিপল ইঞ্জিন’ সরকারের আমলেও মধুপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা কেন দোকান ছেড়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না, তা নিয়ে এখন হাজার টাকার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকার বিধায়িকা থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত বিভিন্ন জনসভায় এবং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বুক ফুলিয়ে দাবি করছেন যে রাজ্যে উন্নয়নের বন্যা বইছে। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সেই উন্নয়নের বন্যায় সাধারণ মানুষের ভাগ্য না বদলালেও, মধুপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড় হয়েছে। বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমান রাম আমল— ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও মধুপুর বাজারের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সামান্য বৃষ্টিতেই নরক গুলজার: আগরতলা-কমলাসাগর প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মধুপুর বাজারটি। কিন্তু বর্তমানে এই বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই ড্রেনের নোংরা জল উপচে মূল সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ড্রেনের ভেতর প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনা জমে জল নিকাশির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত জল রাস্তার ওপর থৈ থৈ করে, যা একসময় ব্যবসায়ীদের দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এই নোংরা জলের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজিতে। জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতা ও ব্যবসায়ীদের অভিনব প্রতিবাদ: ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার কমিটির সম্পাদক থেকে শুরু করে এলাকার ‘গুণধর’ বিধায়িকা এবং স্থানীয় নেতানেত্রীদের বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। নেতারা কেবল নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে আসেন, কিন্তু বাজারের এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে কেউ এগিয়ে আসেননি। অবশেষে কোনো সুরাহা না পেয়ে, ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কাঠের ছোট ছোট অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন, যাতে ক্রেতারা কোনোমতে ড্রেনের নোংরা জল ডিঙিয়ে দোকানে আসতে পারেন।
বাজার সম্পাদকের স্বীকারোক্তি: এই বিষয়ে মধুপুর বাজার কমিটির সম্পাদক জহর সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তিনি সার্বিক পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে উচ্চ কর্তৃপক্ষ যদি অনতিবিলম্বে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে সাথে নিয়ে নিজস্ব দায়িত্বে বাজারের এই জল জমার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ক্ষোভের মুখে স্থানীয় নেতৃত্ব: বর্তমানে গোটা মধুপুর বাজারটি যেন আবর্জনা, নর্দমার নোংরা জল এবং বিষাক্ত মশা-পোকার চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। অথচ এলাকার বিধায়িকা প্রায়শই বাজার পরিদর্শনে আসেন এবং স্থানীয় নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রতিদিন বাজারে এসেও কেন তাঁর চোখে এই নরকীয় দৃশ্য পড়ে না? প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে মধুপুরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ভেতরেই এখন ফিসফাস শুরু হয়েছে যে, এই জনক্ষোভ আগামী দিনে বড় কোনো আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।







