প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ মে, ২০২৬। কৈলাসহরের রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ ও অর্থনীতি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার থেকে শুরু হল দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনার।
‘Women in Policy and Polity: a Post-colonial Perspective’ শীর্ষক এই সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় কলেজের ১৮ নম্বর কক্ষে। আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে এই সেমিনার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডঃ অজিত বর্মন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপিকা ডঃ সুপর্না রায়, চন্ডীপুর ব্লকের বিডিও দেবপ্রিয়া দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন অতিথিরা।
উদ্বোধনী ভাষণে ডঃ সুপর্না রায় বর্তমান ভারতীয় সমাজে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে এক পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।
যদিও এখনও নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু বৈষম্য ও অসাম্য বিদ্যমান, তবে সেই ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে।বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশি।
তাঁর মতে, এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে এবং এর পেছনে পরিবারের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাধীনতার পর থেকে নারীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের ইতিহাসে নারীদের গৌরবময় ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে ডঃ রায় বলেন, বৈদিক যুগে গার্গী, অপালার মতো জ্ঞানী নারীরা সমাজে সম্মানজনক অবস্থান অধিকার করেছিলেন।
তাঁরা শিক্ষালাভ করতেন, বেদ অধ্যয়ন করতেন এবং সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিদেশি আক্রমণ ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে নারীদের অবস্থানে প্রভাব পড়লেও বহু নারী নেতৃত্ব সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।
তিনি মহারানী আহিল্যাবাই হোলকারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রায় তিনশো বছর আগেই তিনি নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। নেতৃত্ব, প্রশাসন ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে নারীরা যে সমানভাবে দক্ষ ও সক্ষম, তা তিনি প্রমাণ করে গেছেন।
সেমিনারে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, ছাত্র-ছাত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের আশা, এই সেমিনারের মাধ্যমে নারী বিষয়ক নীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।








