প্রগতি ত্রিপুরা, ১১ মে, ২০২৬: পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবার দাবিতে সোমবার তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট পূর্ব বাজার এলাকায় আসাম – আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন গ্রামবাসী। দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক পরিষেবার অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এদিন স্থানীয় গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনে অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট চলছে। নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ না থাকায় বহু পরিবারকে দূরবর্তী স্থান থেকে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবাও অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রায়শই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া, লো-ভোল্টেজ সমস্যা এবং রাতে অন্ধকারে কাটাতে বাধ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল।
গ্রামবাসীদের দাবি, বারংবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, নির্বাচনের সময় একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধের পথে নামতে হয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
আটকে পড়ে যাত্রীবাহী যানবাহন সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী গাড়িও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ এবং মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের একাংশকে।
তাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যার প্রতি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদাসীন মনোভাবের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।পরবর্তীতে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় জাতীয় সড়কের যান চলাচল। তবে প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ।







