রহস্যজনক আগুনে পুড়লো বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস!

প্রগতি ত্রিপুরা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : রাতে বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড পুড়ে ছাই গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র, তদন্তে পুলিশ।

ত্রিপুরার উত্তর জেলার যুবরাজনগর ব্লকের অন্তর্গত বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গভীর রাতে ঘটে গেল এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড।

মঙ্গলবার রাতের এই ভয়াবহ আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় পঞ্চায়েত অফিস ভবন। আগুনে পুড়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র এবং প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র।

ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের।

ঘর থেকে বেরিয়ে তারা দেখতে পান, পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি বাগবাসা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইনচার্জ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ এবং ধর্মনগর দমকল দপ্তরে জানান।
খবর পেয়ে ধর্মনগর দমকল বিভাগের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

দমকল কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে পুরো পঞ্চায়েত অফিসটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে বাগবাসা থানার পুলিশ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পঞ্চায়েতের ইনচার্জ চিত্তরঞ্জন দেবনাথ। তিনি জানান, এক পঞ্চায়েত সদস্যের কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছান।

তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েতের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে কয়েক লক্ষাধিক টাকা হতে পারে।”

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাবুল দেবনাথও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি খবর পেয়ে এসে দেখেন অফিসটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনিও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।

এদিকে, দমকল বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও বাগবাসা পঞ্চায়েতে চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তার ওপর মার্চ মাসের শুরুতে বিভিন্ন প্রশাসনিক নথি সংরক্ষণ ও আর্থিক বছরের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনিয়ে আসায় এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে।

বুধবার ভোররাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক যাদব লাল নাথ। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে পঞ্চায়েত অফিসটি জ্বালিয়ে দিয়েছে, যার ফলে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়েছে।

তবে বিধায়কের এই দাবিকে ঘিরে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত স্থানীয়দের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন এই দাবির সত্যতা নিয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দার মতে, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, তাহলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে।”

এখন গোটা এলাকার নজর বাগবাসা থানার পুলিশের তদন্তের দিকে। রহস্যজনক এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আদৌ উদ্ঘাটিত হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment