প্রগতি ত্রিপুরা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার বকাফা আরডি ব্লকের অন্তর্গত পতিছড়ি এডিসি ভিলেজ এলাকায় ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্প অনুমোদন ঘিরে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
একজন মৃত ব্যক্তির নামে কীভাবে এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ TTADC-এর এমডিসি পদ্ম লোচন ত্রিপুরা পতিছড়ি ভিলেজের একটি প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৬২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্পটি প্রেমনন্দ মুড়াসিং (প্রয়াত), পিতা—প্রয়াত হরিপদ মুরাসিং-এর নামে অনুমোদন করা হয়েছে, যা আইন ও সরকারি নির্দেশিকার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মৃত প্রেমনন্দ মুড়াসিং-এর পরিবার পতিছড়ি এডিসি ভিলেজের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁদের নাম ও জমিতে এই প্রকল্প অনুমোদন পেল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রের খবর, শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে মোট তিনটি ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রকল্পগুলির দায়িত্বে রয়েছেন দক্ষিণ জোনালের বনদপ্তরের ডিএফও নারায়ণ জমাতিয়া।
অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও একাধিক চেকড্যাম ও বিভিন্ন প্রকল্প জেলাশাসকের অনুমোদনে বাস্তবায়িত হয়েছে, যেগুলির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর পেছনে কারা কার এর পেছনে কারা কারা জড়িত কিভাবে রেজুলেশন তৈরি করা হচ্ছে তা তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বনদপ্তরের কিছু আধিকারিক, নির্দিষ্ট অফিস কর্মী, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং এলাকার বিধায়কের ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এই প্রকল্পগুলির পিছনে আদৌ কোনো অদৃশ্য সমঝোতা বা গোপন রহস্য রয়েছে কি না।
তাই জেলাশাসকের অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। এছাড়াও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ডোজারসহ যান্ত্রিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা MGNREGA প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হওয়ায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
শেষে পদ্ম লোচন ত্রিপুরা জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হয় এবং অবৈধভাবে প্রকল্প অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত সকল দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।







