কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে বিগত দেড় মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে সিটি স্ক্যান মেশিন

প্রগতি ত্রিপুরা, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা কি তবে শুধু নামেই? শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের বর্তমান চিত্র দেখে এই প্রশ্নই এখন মুখে মুখে। বিগত দেড় মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে আনা হলেও মিলছে না পরিষেবা। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

বিস্তারিত দেখুন এই প্রতিবেদনে। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতাল। কিন্তু বিগত দেড় মাস ধরে এই হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ কার্যত ‘অচল’ হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালের সিটি স্ক্যান পরিষেবা বন্ধ থাকায় নাভিশ্বাস উঠছে রোগী ও তাদের পরিজনদের।

সড়ক দুর্ঘটনা হোক বা ব্রেন স্ট্রোক—প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে মূল্যবান, সেখানে সিটি স্ক্যান না হওয়ায় রোগীদের রেফার করা হচ্ছে আগরতলায়।সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে যে পরিষেবা পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি সেন্টারে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে দরিদ্র রোগীদের।মাস সময় পার হয়ে গেলেও কেন মেশিনটি সারানো হলো না? কেন বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে হাসপাতালের করিডোরে।

এদের মধ্যে এক রোগীর বক্তব্য ​”হাসপাতালে এসে শুনি সিটি স্ক্যান মেশিন খারাপ। আমাদের মতো গরিব মানুষরা বেসরকারি জায়গায় যাওয়ার টাকা কোথায় পাবে? যদি পরীক্ষা করতে দেরি হওয়ার কারণে রোগীর প্রাণ চলে যায়, তবে তার দায় কে নেবে?”হাসপাতাল মানেই মানুষের শেষ ভরসার জায়গা।

কিন্তু শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের এই চিত্র প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কতটা ‘গাফিলতি’ চলছে। মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে। ​প্রশ্ন একটাই— প্রশাসন কি আরও বড় কোনো প্রাণহানির অপেক্ষা করছে, নাকি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে?

Leave a Comment