প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬: উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর মহকুমাধীন লক্ষীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করিমপাড়া এলাকায় চুরি-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাতেনাতে চোরকে ধরে পুলিশে তুলে দেওয়ার পর উল্টো চোরের পরিবার গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে গণসাক্ষর করে থানায় পৃথক মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় করিমপাড়ার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়। গৃহস্থের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন (পিতা—আব্দুল হান্নান) ওই বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা সহ একাধিক সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ আলীর নজরে পড়ে যান।
সঙ্গে সঙ্গে খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে আটক করে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ধৃত চোরকে ধর্মনগর জেলা ও দায়রা আদালতে সোপর্দ করলে সে জামিনে মুক্তি পায়। অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার বাবা আব্দুল হান্নান ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থ, গ্রামের জনপ্রতিনিধি এবং ঘটনার সময় নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে শুরু করে।
এমনকি গ্রামবাসীদের মধ্যে ৫–৭ জনের নাম জড়িয়ে চুরাইবাড়ি থানায় মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে করিমপাড়ার সমস্ত অংশের মানুষ একত্রিত হয়ে গণসাক্ষর সংগ্রহ করেন এবং চুরাইবাড়ি থানার অফিসার-ইন-চার্জ দেবব্রত বিশ্বাসের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ন্যায্য বিচারের দাবি জানান।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত চোর ও তার বাবা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে, তারা গ্রামের নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজনকে অবৈধ উপায়ে ফাঁসিয়ে দেবে। এই ভয় ও আতঙ্ক থেকেই তারা আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।পুলিশ গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেছে যে, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।তবে চোরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ গোটা করিমপাড়া জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য।








