প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬: ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শিমুলতলিতে সাম্প্রতিক হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিআই ত্রিপুরা রাজ্য নেতৃত্ব ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেন।
এই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য রাসবিহারী ঘোষ, সদস্য নীলমণি দেব, মহিলা নেত্রী হাসনা বেগম, রাজ্য কমিটির সদস্য ও জেলা সম্পাদক শাহেদ আলী বাদশা, রাজ্য কমিটির সদস্য এস এম আলী বাবু, মহকুমা কমিটির সদস্য সোনাই মিয়া ও আব্দুল সালাম-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে কুমারঘাট থানায় গিয়ে প্রতিনিধিদল এসডিপিও উৎপলেন্দু দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি থাকায় সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। প্রশাসন আরও জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ১৬৩ ধারা প্রত্যাহার হলে সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।
এ সময় সিপিআই নেতৃত্ব জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে বাজারঘাট ও দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন না বহু পরিবার। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন তাদের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনও ঘাটতি না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। 
নেতৃত্বরা আরও দাবি করেন, হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাড়িঘর ও যানবাহন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে, সেগুলি দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার আবেদন জানানো হয়।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সিপিআই নেতৃত্ব বলেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। পাশাপাশি উদয়পুর–চন্দ্রপুর এলাকায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে গরু হত্যার নামে অশান্তি সৃষ্টির যে চেষ্টা হয়েছিল, সে বিষয়েও প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সিপিআই নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যে এই ধরনের ভয়ের পরিবেশ অতীতে কখনও দেখা যায়নি। অবিলম্বে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং যারা রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে আইনের শাসন কায়েম করার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান তারা।








