প্রগতি ত্রিপুরা, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ প্রজ্ঞা ভবনে রাজ্যভিত্তিক মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য অভিযানের শুভ সূচনা হয়।
১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম রাউন্ড অভিযানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিশেষ করে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা মানুষের মধ্যে।
অনেক ক্ষেত্রেই এসব রোগ দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না এবং পরবর্তীতে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে এই অভিযান শুরু হলো।
মোট ৩ বছর ধরে প্রতি বছর দুই ধাপে ১৪ দিন করে এই অভিযান চলবে। প্রথম বছরের প্রথম রাউন্ডে ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এই অভিযান সংগঠিত করা হবে।
দ্বিতীয় বছরের প্রথম রাউন্ডে ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই, ২০২৭ পর্যন্ত এই অভিযান সংগঠিত করা হবে।
তৃতীয় বছরের প্রথম রাউন্ডে ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি, ২০২৮ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই, ২০২৮ পর্যন্ত এই অভিযান সংগঠিত করা হবে।
১৪ দিনের প্রথম ৭ দিন গ্রাম ও শহরে স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান ক্রা হবে। আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মবেন। বাড়ি বাড়ি অভিযানকরবেন। পরের ৭ দিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্য শিবির, রোগ নির্ণয় করা এবং ফলো-আপ করা হবে।
এই অভিযানে টিবি রোগ শনাক্ত করতে এক্স-রে, কফ পরীক্ষা ইত্যাদি করা হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
প্রতি ধাপে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ লক্ষ ৫ হাজার মানুষের উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের রুটিন পরীক্ষা করা হলে। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, ক্রনিক কিডনি রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি পরীক্ষা করা হবে।
প্রতি বছর ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে ৫ লক্ষ মানুষের মুখগহ্বরের ক্যান্সার পরীক্ষা, ২ লক্ষ ৫ হাজার মহিলার জরায়ু মুখ এবং স্তন ক্যান্সার পরীক্ষা করা হবে।
সচেতনতা বৃদ্ধি, খাদ্যতালিকাগত পরামর্শ এবং যোগব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আয়ুত্থান আরোগ্য মন্দিরে প্রাথমিক স্ক্রিনিং করা হবে।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, লিভার, কিডনি এবং হার্টের রোগের না উৎকরণের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা হাসপাতালে পরীক্ষা করা হবে।
ক্যান্সার নিশ্চিতকরণের জন্য জেলা হাসপাতাল বা রাজ্য ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে পরীক্ষা করা হবে। সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর চিকিৎসা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা হাসপাতালে শুরু করা হবে।
এই অভিযানে যারা ক্যান্সার রোগে সনাক্ত হবেন তাঁদের চিকিৎসা রাজ্য ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুরু করা হবে। পরবর্তী ফলো-আপ এবং প্রতি মাসের ওষুধ আয়ুত্থান আরোগ্য মন্দির থেকে প্রদান করা হবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব শ্রী কিরণ গিত্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তথা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা শ্রী সাজু ওয়াহিদ এ স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ দেবশ্রী দেববর্মা পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক অধিকারের তাধিকর্তা ডাঃ অঞ্জন দাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকারের অধিকর্তা ডাঃ এইচ পি শর্মা সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য আধিকারিকগণ।








