প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫: উত্তরাখন্ডের দেরাদুনে খুন হয়েছে রাজ্যের ছাত্র এঞ্জেল চাকমা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, খুন হওয়া ছাত্রের বাড়ি নন্দননগরের দেব রাম ঠাকুরপাড়ায়।
গত নয় ডিসেম্বর দেরাদুনের একটি বাজারের মধ্যে এঞ্জেল চাকমা এবং তার ভাই বাজার করতে গিয়েছিলেন। তখন স্থানীয় কিছু যুবক তাদের দেখে কটুক্তি করায় তারা প্রতিবাদ জানান।
তখন এঞ্জেলের বড় ভাইকে রড দিয়ে মারধর করতে থাকে দুর্বৃত্তরা। প্রতিবাদ জানাতে গেলে দুর্বৃত্ত বাহিনী এঞ্জেলের ঘাড়ে এবং পেটে ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে দেরাদুন গ্রাহিক এরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এঞ্জেল।
শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন রাতের বেলা স্থানীয় থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয় নি। পরবর্তী সময় ১০ ও ১১ ডিসেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। তারপরেও মামলা হাতে নেয় নি পুলিশ।
পরবর্তী সময় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে বারো ডিসেম্বর মামলা হাতে নিতে বাধ্য হয় পুলিশ। রবিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জীবন বসুর চাকমা তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে আগরতলা আস্তাবল ময়দান থেকে শহরে একটি মোমবাতি প্রজ্বলন সমাবেশ করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারক লিপি জমা দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি জানানো হবে।
উল্লেখ করা যায়, এঞ্জেল এবং তার ভাই মাইকেল চাকমা দেরাদুনে জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ কোর্সে পড়াশোনা করতো। এঞ্জেল শেষ বছরের ছাত্র ছিলেন। শনিবার বিমানে নিহত যুবকের মৃতদেহ রাজ্যে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এই খুনের ঘটনায় উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুদ্ধর সিং ধামির সঙ্গে কথা বলেছেন। ডা. মানিক সাহা শনিবার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই মামলার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।








