বিজেপি দলের সাংগঠনিক শক্তির মূল ভিত্তি হলেন পৃষ্ঠা প্রমুখরা : মুখ্যমন্ত্রী

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫: রবিবার মন্ত্রী রতনলাল নাথের নেতৃত্বে বিজেপি-এর মোহনপুর মণ্ডল কর্তৃক আয়োজিত ৫৬টি বুথ থেকে আগত মোট ১,১২০ জন পৃষ্ঠা প্রমুখসহ সমস্ত বুথ কমিটি, বিভিন্ন মোর্চা ও সেলের কার্য্যকর্তাদের নিয়ে পৃষ্ঠা প্রমুখ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি মিমি মজুমদার সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। সম্মেলনে মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এক হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা প্রমুখ, সমস্ত বুথ কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন মোর্চা ও সেলের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ডাঃ সাহা বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিজয় নিশ্চিত করার নেপথ্যে যাঁরা নীরবে, মঞ্চের আলোর আড়ালে থেকে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন l তাঁরাই আমাদের দলের মূল চালিকাশক্তি, আমাদের পৃষ্ঠা প্রমুখগন। পৃষ্ঠা প্রমুখদের উপর ভারতীয় জনতা পার্টির অনেক ভরসা।

প্রলোভন দিয়ে কার্যকর্তা তৈরি করা যায় না। কাজের মধ্য দিয়ে কার্যকর্তার পরিচয়। সমর্পণের ভাবনা থাকলেই পার্টি করা যায়। সাংগঠনিক শক্তির মূল ভিত্তি হলেন পৃষ্ঠা প্রমুখরা। মুখ্যমন্ত্রী ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপি-এর উত্থানের কথা স্মরণ বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর আমাকে বিস্তারক হিসেবে একটা জায়গায় পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে আমাকে পৃষ্ঠা প্রমুখ ইনচার্জ এর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর আবার মেম্বারশিপ ড্রাইভের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে আমাকে টার্গেট জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে কতজন মেম্বার বানাতে পারবো। আমি কিছু না জেনে ৩ লাখ মেম্বার করার কথা বলে দিই। যদিও পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির ৭ লক্ষ মেম্বার করা হয়।

তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে তাঁর ভূমিকা ও সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জানান, পৃষ্ঠা প্রমুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সদস্যপদ অভিযান জোরদার করার মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যতোই ধমকানো চমকানো হোক, যারা সারেন্ডার বাহিনী আছে তাদেরকে উল্কিয়ে কিংবা তাদের উপর ভিত্তি করে আগামীদিনে মনে করছে ছাড় পাবে।

কিন্তু ছাড় পাবে না। আমাদের নেতৃত্ব রয়েছেন। আমাদের অভিভাবক রয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। আমাদের অভিভাবক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অভিভাবক হচ্ছেন যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, উস্কানি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ হয়ে গেছে।

অপরাধীরা কখনোই বিজেপি-এর কর্মী হতে পারে না এবং তারা উন্নয়ন ও সুশাসনের পক্ষে কাজ করতে অক্ষম। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে থামানো যাবে না। একমাত্র বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারই প্রকৃত উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমি নিশ্চিত সংগঠনের আত্মা এই পৃষ্ঠা প্রমুখদের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় আসন্ন এডিসি সহ অন্যান্য নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি রেকর্ড সংখ্যক ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করবে।

Leave a Comment