পাঁচ বছর ধরে তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী সংযোগকারী সড়ক পথের ভগ্নদশা, ক্ষোভ এলাকাবাসীর

অনলাইন ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫: উন্নয়নের প্রতিটি মাপকাঠিতে যোগাযোগব্যবস্থা যে মূল চালিকাশক্তি—এ কথা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র যখন তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটে, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, হতাশা আর প্রশ্নবাণে প্রশাসনকে সমালোচনার মুখে পড়তেই হয়। এমনই এক জ্বলন্ত উদাহরণ তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী সংযোগকারী সড়ক পথের ভগ্নদশা।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কার্যত সাধারণ মানুষের ‘প্রতিদিনের দুর্ভোগের পাঠশালা’। ২৯-নং কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোলাবাড়ি, উত্তর–দক্ষিণ কৃষ্ণপুর, মধ্য কৃষ্ণপুর, নয়নপুর—প্রধানত কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার বাসিন্দাদের একমাত্র জীবিকা কৃষিকাজ, আর সেই কৃষিজ পণ্য বাজারজাত করতে গেলে প্রথম বাধা ওই ভগ্নপ্রায় রাস্তা।

পথের গর্ত, দেবে যাওয়া অংশ, বৃষ্টিতে কাদার সমুদ্র—সব মিলিয়ে পণ্য বাজারে পৌঁছোতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সময় ও বেশি লাগছে। বাড়ছে খরচ, আর কৃষকদের ক্ষোভ চরমে উঠছে।যানচালকদের অভিযোগ আরও তীব্র। নয়নপুরের এক যান চালক জানান—“নিজের বাড়ি ওই এলাকায়। কিন্তু রাস্তাটার দশা এমন যে যাত্রী নিয়ে ঢুকলে গাড়ি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। তাই যেতে চাই না।

’’স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী থেকে অসুস্থ মানুষ—সকলের জন্য এই রাস্তা আজ এক দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা বা জরুরি রোগীকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে আনতে হলে এই ভগ্ন রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদের মতো। বহু সময়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ।৭০ বছরের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভের সুরে বলেন— “এই রাস্তায় পাঁচ মিনিট হাঁটলেই মাথা ঘুরে যায়।

এত কষ্টের মধ্যে প্রতিদিন চলাফেরা করতে করতে শরীরটাই ভেঙে পড়ছে।”কিন্তু এই সমস্যার রাজনৈতিক মাত্রা আরও বিস্তৃত। অভিযোগ উঠেছে, এই রাস্তার করুণ অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এমনকি স্থানীয় মানুষজন জানান,“রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে মন্ত্রী মহাশয় নিজেই অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের রাস্তা ব্যবহার করে বাড়ি আসেন!

”দুই বছর ধরে দাবি জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি তাঁর দপ্তরের দিকেই আঙুল তুলছে। ভোটের সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যারা দিয়েছিলেন, আজ তাদের নীরবতা মানুষ আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।এলাকাবাসীদের বক্তব্য স্পষ্ট—“প্রশাসন যদি এখনই না শোনে, তাহলে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

’’কৃষক, ছাত্রছাত্রী, রোগী, যানচালক—সকলেরই একটাই দাবি:“যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হোক।’’এখন সমস্ত নজর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে।মানুষের চোখে প্রশ্ন- শীত যায় গরম আসে গরম যায় শীত আছে কিন্তু এ রাস্তার আর কোন হাল ফিরে না।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই যদি জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে নীরব থাকেন…তবে উন্নয়নের ভাষা আসলে কার জন্য লেখা হচ্ছে?চলমান জনদুর্ভোগ কি এবার প্রশাসনের ঘুম ভাঙাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। না এভাবেই চলতে থাকবে বছরের পর বছর ,গতানুগতিভাবে চলবে প্রশ্ন সার্বিক এলাকার মানুষের।

Leave a Comment