প্রগতি ত্রিপুরা, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫: থানার পুলিশকে ঘুমে রেখে মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা আরক্ষা প্রশাসনের অভিযান। বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মালামাল প্রস্তুত রাখা গোডাউনে হানা দিল মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা আরক্ষা প্রশাসন। জানা গেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৃথক পৃথকভাবে গোপন খবর আসে বিশালগড় মহকুমা শাসক এবং সিপাহীজলা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার কাছে যে, মধুপুর বাজারের ইউকো ব্যাংক সংলগ্ন এবং বেসরকারি আনন্দমার্গ স্কুল সংলগ্ন গোডাউনে বাংলাদেশের পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধ মালামাল মজুদ রয়েছে।
সেই গোপন খবরের ভিত্তিতে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিশালগড় মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস, জেলা সেইল টেক্স এন্ড ফোর্সমেন্ট এর আধিকারিকরা একযোগে মধুপুর থানার পুলিশকে না জানিয়ে আচমকা প্রবেশ করে ওই গোডাউনে। সেখানে গিয়ে মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মধুপুর থানার পুলিশকে জানায় যে প্রশাসনের তরফ থেকে ওই জায়গায় অভিযান চলছে তাই মধুপুর থানার পুলিশ যেন সেখানে দ্রুত ছুটে আসে।
মধুপুর থানার পুলিশ ও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসে। মধুপুর থানার পুলিশ সেখানে এসে দেখতে পায় ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট সহ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনীকে। জেলা পুলিশ আধিকারিক কে দেখতে পেয়ে মধুপুর থানার তরফ থেকে একে একে অফিসার সেখানে ছুটে আসেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিশালগড় মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস তখন খোঁজ নিচ্ছিলেন বন্ধ করে রাখা গোডাউনের মালিক কে? পরে ঢাকা হয় মধুপুর বাজার কমিটির সম্পাদককে, বাজার কমিটির সম্পাদক এসেও ঠিকভাবে বলতে পারছিলেন না এই গোডাউনটির মালিক কে।
পরে বাজার কমিটির অন্য একজন ছুটে এসে প্রশাসনের আধিকারিকদের জানিয়েছেন এই গোডাউন টি অপার এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া হিসাবে নিয়েছেন রাকেশ দেবনাথ। পরে প্রশাসন এবং বাজার কমিটির পক্ষ থেকে রাকেশ দেবনাথ কে ডাকা হয় গোডাউনের চাবি নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য।
পরে গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ চাবি নিয়ে এসে গোডাউনের তালা খুলতেই জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস গোডাউনের ভেতরে প্রবেশ করতেই তাদের চোখ কপালে উঠে যায়। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বিশালগড় মহকুমার ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাস গোডাউনের ভেতরে দেখতে পান প্রচুর পরিমাণে চালের বস্তা, প্রচুর পরিমাণে কসমেটিক সামগ্রী যেমন সুগন্ধি পাউডার, সুগন্ধি তেল মজুদ রয়েছে।
যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেটের জবাবে গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ গোডাউনে এই ধরনের মালামাল মজুদ রাখার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। যদিও তখন প্রশাসনের আধিকারিকরা গোডাউনের মালিক কে প্রশ্ন করে এত পরিমানের কসমেটিক সামগ্রী গোটা মধুপুর থানা এলাকার মানুষ ব্যবহার করার কথা নয়। প্রশাসনের আধিকারিকদের এই ধরনের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি গোডাউনের মালিক রাকেশ দেবনাথ।
পরের সঙ্গে সঙ্গেই ডেপুটি কালেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেনজিৎ দাসের সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নেন গোডাউনটি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সিল করার এবং সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাকেশ দেবনাথের এই গোডাউনটি সিল করেন। প্রশ্ন হল প্রশাসনের আধিকারিকরা এই গোডাউনে অভিযান চালানোর আগে মধুপুর থানার পুলিশকে কেন জানায়নি! যদিও এর আগে পাচার বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে মধুপুর থানার পুলিশের জোকসাজেস এর বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছিল।
তার কারণ প্রায় প্রতিনিয়তই মধুপুর থানার নাকের ডগা দিয়ে গাড়ি ভর্তি করে পাচার সামগ্রী সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে মজুদ হত এবং সেখান থেকে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশের সেই সব অবৈধ মালামাল পাচার হতো কিন্তু এই পাচার বাণিজ্য বন্ধ করতে মধুপুর থানার ভূমিকা ছিল একেবারেই শূন্য।
হয়তো সেই খবর বিশালগড় মহকুমা প্রশাসন সহ সিপাহীজলা জেলা পুলিশের ভালোভাবেই জানা ছিল তাই হয়তো গোডাউনের মালামাল যাতে বের হয়ে না যায় এবং সেই গোপন খবর যেন গোডাউনের মালিকের কানে না পৌঁছায় তাই প্রশাসনিক আধিকারিকরা অগ্রিম এই অভিযানের বিষয়টি মধুপুর থানার পুলিশকে জানায়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে রাকেশ দেবনাথ এর গোডাউন টি সিল করার পর প্রশাসনের তরফ থেকে তাকে বলে দেওয়া হয় শুক্রবার সকালের মধ্যে বিশালগড় মহকুমা শাসক অফিসে এই গোডাউনের বিষয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে দেখানোর জন্য এবং মালামাল মজুদ রাখার যদি সঠিক কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারেন তাহলে গোডাউনের ভেতরের সমস্ত জিনিসগুলি প্রশাসনের তরফ থেকে বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে আসা হবে।
যদিও বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বুঝতে বাকি ছিল না যে এতগুলি কসমেটিক সামগ্রী এবং চালের বস্তা নিশ্চয়ই মধুপুর এলাকার মানুষদের জন্য নয় অর্থাৎ এইগুলি বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের এই অভিযানকে ঘিরে মধুপুর থানার পুলিশ মধুপুর বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে হাসির পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে থানার পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকলেও মহকুমা প্রশাসন এবং জেলা আরক্ষা প্রশাসন সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাও আবার থানার পুলিশকে ঘুমে রেখে।







