প্রগতি ত্রিপুরা, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫: ধারাবাহিক ভাবে চলছে বিশ্রামগঞ্জ থানার গাঁজা ধ্বংস অভিযান। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় গাঁজা বাগান ধ্বংস অভিযান। বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা’ র নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার গাঁজা বাগান ধ্বংস যজ্ঞ শুরু হয়। পুলিশের সঙ্গে ছিল একাদশ বেটেলিয়ানের টিএস আর জোয়ানরা।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমেই পুলিশ এবং টিএসআর হানা দেয় বিশ্রামগঞ্জ থানার অন্তর্গত লাঠিয়াছড়া ভিলেজ কমিটির দশমুখো এলাকায়। এই এলাকার উঁচু টিলাভূমির উপরে গভীর জঙ্গলের মধ্যে বন দপ্তরের জায়গায় গাঁজা চাষিরা গড়ে তুলে বিশাল বড় গাঁজা বাগান। সমস্ত গাঁজা গাছগুলো পরিণত হয়ে গিয়েছিল। আর অল্প কয়দিন সময় পেলে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারতো।
এরই মধ্যে হানা দেয় বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ এবং টিএসআর। এরপর পুলিশ হানা দেয় জম্পুইজলা ব্লকের দয়ারামপাড়া ভিলেজ এলাকায়। এই এলাকার গভীর জঙ্গলে বনদপ্তর এর বিশাল জায়গায় গাঁজা চাষ করে চাষিরা। পুলিশ এবং টিএসআর সমস্ত গাঁজা বাগান ধ্বংস করে দেয়। এরপর পুলিশ এবং টিএসআর হানা দেয় লাঠিয়া ছড়া ভিলেজের অশোক কলোনি এলাকার গভীর জঙ্গলে।
সেখানেও বন দপ্তরের বেশ কয়েকটি প্লটে গাঁজা বাগান ধ্বংস করে পুলিশ এবং টিএসআর। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নেশা মুক্ত ত্রিপুরার ডাক দিয়েছেন। তিনি ত্রিপুরাকে নেশা মুক্ত করতে চাইছেন। তিনি ড্রাগ ফ্রি ত্রিপুরার স্বপ্ন দেখেন। এই নেশা মুক্ত অভিযানের অঙ্গ হিসেবে প্রতিদিন আমরা অবৈধ গাঁজা বাগান ধ্বংস করে চলেছি।
আজকে বন দপ্তরের সাতটি প্লটে প্রায় ৮০ হাজার পরিণত গাঁজা গাছ ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকার উপরে হবে। অবৈধ গাঁজা চাষ না করে ফল এবং সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ম্বর হওয়ার জন্য গাঁজা চাষীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছেন বিশ্রামগঞ্জ থানার ওসি অজিত দেববর্মা।
তবে তিনি আরো জানিয়েছেন আগামী দিনেও তাদের এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে জারি থাকবে। কোনভাবেই অবৈধ গাঁজা চাষ বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকার কোথাও করা যাবেনা বলে তিনি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন। বিশ্রামগঞ্জ থানা পুলিশের ধারাবাহিকভাবে গাঁজা ধ্বংস অভিযানে গাঁজা চাষীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।








