প্রগতি ত্রিপুরা, ৫ নভেম্বর, ২০২৫: গত কয়েক দিন আগে অসমের করিমগঞ্জ বর্তমান শ্রীভূমিতে একটি রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে বিধূ ভূষণ দাস নামে একজন বাঙালী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীভূমি নামটিকে সন্মান জানিয়ে খালি গলায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি গানটি গেয়ে অসমের বিজিপি সরকারের রোষানলে পড়েন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন এরা আমার সোনার বাংলা গানটি গেয়ে দেশদ্রোহীতার কাজ করেছেন। এদের ব্যাপারে রাষ্ট্রদ্রোহীতার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।
অসমের বিজিপি সরকারের যুক্তি হলো যেহেতু আমার সোনার বাংলা গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত সেহেতু ভারতের বুকে এই গান গাওয়া মানে দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা বলে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সহ বিজিপি দলের নেতৃত্বরা মনে করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজদের বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনাকে বাতিল করার জন্য বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাখতে আমার সোনার বাংলা গানটি রচনা করে এবং কবি নিজেই গানটি গেয়েছেন।
যদিও বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমার সোনার বাংলা গানটি কে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে মর্যাদা দেয়।ভারতের জাতীয় সঙ্গীত গানটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প কবিতা ভারত বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে স্থান পেয়েছে। কিছু দিন আগেও অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন অসমে যাদের মাতৃভাষা বাংলা হিসেবে লিখবে ধরে নিতে হবে ওরা বাংলাদেশী।
শুধু তাই নয় কয়েক মাস আগে বিজিপির আইটি সেলের অমিত মালব্য বলেছেন বাঙালীর অস্তিত্ব থাকলেও বাংলা কোন ভাষায় নয়। আবার ঠিক সেই সময় দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় বাংলা ভাষায় কথা বললে ধরে নিতে হবে তারা বাংলাদেশী।
আর এই নিয়ে যেহেতু বিজিপি দলের রাজ্য নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোনো বিরোধীতা করেনি তাহলে সহজেই অনুমান করা যায় যে এটি বিজিপি দলেরই মূল বক্তব্য।
তাছাড়া আর এস এস সমর্থিত বিজিপি দলের শিক্ষা সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীননাথ বাত্রা মোদীজী ক্ষমতায় আসার পর এন সি আর টি পাঠ্যক্রম থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প কবিতা উপন্যাস বাদ দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে ছিলেন।
এমনকি বিজিপি দলের সাংসদ সূব্রন্ময়িম স্বামী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত টিকে পরিবর্তনের জন্য দাবি জানিয়েছিলেন বিজিপি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে।
আমরা তাও দেখলাম উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্য নাথ গদীতে বসার পর উত্তর প্রদেশের পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প কবিতা উপন্যাস সবকিছু বাদ দিয়ে দিয়েছে।
শুধু তাই নয় বিজিপি হিন্দুত্ব প্রেম দেখালেও তারা যে প্রচন্ড বাঙালী বিদ্বেষী তা কিন্তু দিনের পর দিন তাদের কার্যকলাপের মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠেছে।
বিদ্যাজোতি ও একলব্য শিক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কাহিনী যেমন মুছে দিতে চাইছে তেমনি বাংলা ভাষাকে সংকুচিত করে হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেয়ার কৌশল করছে।কারণ আর এস এস সমর্থিত বিজিপি দলের মূল এজেন্ডা হলো হিন্দু হিন্দি হিন্দুস্থানে বানানোর পরিকল্পনা।
আর বাঙালী কে অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে চলে বলে তাড়ানোর জন্য এন আর সি ও এস আই আর হলো এক নূতন ফাঁদ।
এই ফাঁদে পড়ে যে সকল বাঙ্গালীরা নিজেদের সঠিক কাগজ পত্র দেখাতে পারবেন না এই দেশে দীর্ঘ দশক ধরে বসবাস করে ও তাদের জন্য রাজ্যে রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।
আর যারা বলে ২০২৪ সালের মধ্যে যে সকল হিন্দুরা বিভিন্ন কারণে এই দেশে এসেছে তাদের সি এ এ এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
তাহলে সেই সকল হিন্দুদের কেন এস আই আর এর জন্য ২০০২ সালে ভোটারের মধ্যে বাবা মা র নাম থাকিলেই নূতন ভোটারের নাম লিপিবদ্ধ হবে।
আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে অসম সরকারের ও বিজিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হিন্দুত্বের আড়ালে বাঙালী বিদ্বেষী মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করেছে।
এই ভাবে বার বার বাংলা ভাষার অপমান ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান কবিতা লেখা বাদ দেওয়া মানে বাঙালী জাতির অপমান।
শুধু বর্তমানেই হিন্দুত্ববাদী দলের বাঙালী বিরোধী মনোভাব ফুটে উঠেনি। নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযানের সময়েও তারা নেতাজীর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।
অসমে বিজিপি সরকারের আমলে লাখ লাখ বাঙালী ডি ভোটারে এবং এন আর সি র বলি হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে সি এ এ আইন পাস হলেও অসমের বাঙালীর ভাগ্যে এখনও নাগরিকত্ব জুটে নি।
যারা বার বার বলছে এই দেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী এসে ভরে গেছে। অথচ বিহারে যে,৬৫ লাখ ভোটার এস আই আরের কারণে বাতিল হয়েছে কতজন রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে তা কিন্তু সরকার প্রকাশ্যে আনছে না।
আর এই ভাবে স্বাধীন দেশে বার বার বাঙালী জাতির মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করছে বলে আমরা বাঙালী দল মনে করে।
আমরা বাঙালি রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হলেন রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল, প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, সীমন্তী দেব, অশোক কুমার দাস, সমর দেবনাথ প্রমুখ।








