প্রগতি ত্রিপুরা, ৫ নভেম্বর, ২০২৫: গোমতী জেলায় মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব সুস্থ কৈশোর অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। জেলায় ১০ বছর এবং ১৬ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের জন্য টিটেনাস-ডিপথেরিয়া টিকাকরণের উপর জোড় দেওয়া হয়েছে। টিটেনাস-ডিপথেরিয়া টিকাকে সংক্ষেপে টিডি ভ্যাকসিন হিসাবেও বলা হয়। গত ২৪ অক্টোবর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব সুস্থ কৈশোর অভিযানের অষ্টম পর্যায় চলছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. কমল রিয়াং জানান, গতকাল পর্যন্ত গোমতী জেলায় বিভিন্ন ১০৯৯ জন ছেলেমেয়েকে টিটেনাস-ডিপথেরিয়া টিকা দেওয়া হয়েছে।
আজও জহর নবোদয়া বিদ্যালয় সহ জেলার শিলাছড়ি ব্লকের হেজাছড়ি স্কুল, ধন সর্দার পাড়া এস বি স্কুল, তেপানিয়া ব্লকের ছাতারিয়া আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, কালাবানের পাথার এস বি স্কুল, কাকড়াবন ব্লকের মির্জা চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, খিলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামানি চৌধুরী এস বি স্কুল, মাতাবাড়ি ব্লকের গামারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সহ আরও অনেক টিকাকরণ করানো হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রদত্ত তথ্যে জানা গিয়েছে ১০ বছর বয়সের ৬০৫ জনকে এবং ১৬ বছর বয়সের ৪৯৪ জন ছেলেমেয়েকে টিকা দেওয়া হয়।
গোমতী জেলার টিকাকরণ আধিকারিক ডা. চিরঞ্জিত নোয়াতিয়া বলেন, টিডি ভ্যাকসিনের একটি ডোজ ১০ বছর বয়সে এবং অপর ডোজটি ১৬ বছর বয়সে দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন জেলায় শিক্ষ আদপ্তর এই কাজে ভালো সাহায্য করছেন। এই টিকা দুটি রোগ থেকে বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলেমেয়েদেরকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। একটি টিটেনাস বা ধনুষ্টঙ্কার এব্য অন্যটি ডিপথেরিয়া বা হুপিং কাশি। স্কুলকালীন বয়সে ছেলেমেয়েরা ছোট খাট বা বড় ধরনের আঘাত পেয়ে থাকেন যার থেকে টিটেনাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই এই বয়সে টিটেনাস টিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারীভাবে টিটেনাস টিকার সঙ্গে যুক্ত করে ডিপথেরিয়া বা হুপিং কাশির প্রতিরোধক টিকাও একসঙ্গে দেওয়া হয় যা সাধারন বাজার থেকে পাওয়া যায় না। যাতে করে ছেলেমেয়েরা দুটি রোগ থেকে শরীরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। উল্লেখ্য, হুপিং কাশি হল একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. রিয়াং বলেন, এই অভিযানের পরও ১০ বছর এবং ১৬ বছর বয়সের ছেলেমেয়েরা যে কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে এই টিকা বিনামূল্যে নিতে পারেন। এটি নিরাপদ এবং কার্যকরী বলে তিনি জানান। জেলার এই বয়সের প্রতি ছেলেমেয়েকে দুই ডোজ টিকা দেওয়ানোর জন্য জেলায় মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সব অভিভাবকের কাছে আবেদন করেন। গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয় থেকে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।








