দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায়ও আদি কর্মযোগী অভিযান শুরু হয়েছে: জেলাশাসক

অনলাইন ডেস্ক, ০৭ অক্টোবর, ২০২৫: জনজাতি ক্ষমতায়ণ ও উত্তরদায়ী শাসনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায়ও ‘আদি কর্মযোগী অভিযান’ শুরু হয়েছে। ভারত সরকারের জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের নির্দেশনায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল তৃণমূল পর্যায়ে শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভাগগুলির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে জনজাতিদের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা।

\আজ বিলোনীয়ার সার্কিট হাউজের কনফারেন্স হলে আহত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক মহম্মদ সাজাদ পি। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত ও জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (পিপি) মহম্মদ হাবিজ উদ্দীন।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক বলেন, এক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, ডিজিট্যাল ক্ষমতায়ণ, নারী ও শিশু কল্যাণ এবং জনজাতি এলাকা অবকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যেন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি প্রতিটি জনজাতি পরিবারের কাছে সময়মতো ও কার্যকরভাবে পৌঁছে যায়।

এই অভিযানটি ‘বিকশিত ভারত- সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস’ এই জাতীয় দর্শনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এর মাধ্যমে একদল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কর্মকর্তা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আদি কর্মযোগী, আদি সাথী ও আদি সহযোগী গড়ে তোলা হচ্ছে। যারা পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এবং জনজাতি পরিবারের কাছে সরকারি সেবা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেবে।

দেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সুফল থেকে যেন কোন জনজাতি নাগরিক বঞ্চিত না হয় সেই লক্ষ্যে এই অভিযান শুরু হয়েছে যাতে দেশের দশ কোটিরও বেশী জনজাতি নাগরিক উপকৃত হবে সরাসরি। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ৭০টি জনজাতি গ্রাম রয়েছে যেগুলি এই অভিযানে উপকৃত হবে। সমন্বয় ও উত্তরদায়ী প্রশাসনের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে ইস্ট পিলাক গ্রামকে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পাইলট গ্রাম হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পাইলট গ্রামের মূল লক্ষ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতগুলির প্রচেষ্টাকে একত্রিত করা। তাতে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যুব স্বেচ্ছাসেবক, আদি সাথী এবং আদি সহযোগীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে যা প্রকৃত জনগণের অধিকার ও অংশীদারিত্বের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত জনজাতীয় গৌরব বর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। জেলাশাসক বলেন, আদি কর্মযোগী অভিযান এক ঐতিহাসিক গণ আন্দোলন হিসেবে দাঁড়িয়েছে যা নিশ্চিত করছে যে উন্নয়নের যাত্রায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

Leave a Comment