বাবার সাথে প্রতিমা গড়ার কাজে ১২ বছরের দেবজিৎ

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫: বাবার সাথে প্রতিমা গড়ার কাজে হাত লাগিয়েছে ১২ বছরের দেবজিৎ। এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে শিল্পের উত্তরাধিকার।

তেলিয়ামুড়ার মৃৎশিল্পী দীপক দেবনাথ জানিয়েছেন মূর্তির চাহিদা আছে বটে, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। বাঙালির প্রাণের এবং বড় উৎসব দূর্গোৎসব।

হাতে গোনা মাএ কয়েকটাদিন।এরই মাঝে কোমরপাড়ায় তুলি হাতে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎ শিল্পীরা। এরই মাঝে তেলিয়ামুড়ার নেতাজীনগর থেকে উঠে এলো এক দারুন দৃশ্য।

নেতাজীনগরের বাসিন্দা দিপক দেবনাথ, টানা ২২ বছর ধরে সুনামের সাথে দূর্গা প্রতিমা বানিয়ে আসছেন, উনার হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় মাটির প্রতিমা, যা মুগ্ধ করে দিচ্ছে দর্শনার্থী থেকে শুরু পূজো উদ্যোক্তাদের মন।

বাবা দিপক দেবনাথের সঙ্গে প্রতিমা গড়ার কাজে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উনারই মাত্র ১২ বছরের ছেলে দেবজিত। ছোট বয়সেই বাবার শিল্প কর্মের প্রতি টান, আর তাই প্রতিমা গড়ার কৌশল শিখে নিচ্ছে নিবিড়ভাবে ।

কথা প্রসঙ্গে দিপক দেবনাথ সাংবাদিকদের জানায় একটানা ২২ বছর ধরে এই মাটির প্রতিমা তৈরি করে আসছেন, গত বছরের তুলনায় এবারের চাহিদা অনেকটাই বেশি, তবে প্রতিমা নির্মানের সরঞ্জামের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও, পূজোর সংক্ষা বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবে বলে আশাবাদী ।

এই প্রতিমা নির্মান করেই সংসার প্রতিপালন হয় উনার৷ সাথে প্রতিনিয়ত ২ থেকে ৩ জন মৃৎ শিল্পী কাজ করে আসছেন দিপকের সাথে।

এমনকি বাবা দিপক দেবনাথের কাজে অনুপ্রানিত হয়ে বয়স ১২-র ছোট্ট দেবজিৎ ও মাটি হাতে বাবাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। দেবজিৎ বর্তমানে তেলিয়ামুড়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পঞ্চম শ্রেনীতে পাঠরত।

তবে বাবা দিপকের এই শিল্পের উত্তরাধিকার এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে যাচ্ছে, ছেলে দেবজিৎ এর হাতে তা স্পষ্ট দেখা যায়,যা তেলিয়ামুড়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

একদিকে অভিজ্ঞতার ছোঁয়া, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের আগ্রহ—দু’জনে মিলে যেন পূজো উৎসবের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

Leave a Comment