এবার নির্যাতিত পুরুষ! ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ

অনলাইন ডেস্ক, ৮ জুলাই ২০২৫ : নারী নির্যাতনের অভিযোগ সাধারণ, তবে এবার অভিযোগকারী এক নির্যাতিত পুরুষ! সমাজে প্রতিনিয়ত নারী নির্যাতনের ঘটনা আমাদের চোখে পড়লেও, যখন কোনো পুরুষ নারী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন, তখন তা প্রায়শই আড়ালেই থেকে যায়।

এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী থাকলো উত্তর জেলার কদমতলা। সমাজে বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা যেন পুরুষদের দুর্দশার কথা বলার অধিকারকেই অস্বীকার করে।

কিন্তু সেই বৃত্ত ভেঙে এবার ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এক বিবাহিত পুরুষ — অমিতাভ নাথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমতলা পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত লালমোহন নাথের পুত্র অমিতাভ নাথের সঙ্গে ২০২১ সালের ৫ই মার্চ হিন্দু রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন একই এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ নাথের কন্যা পারমিতা নাথ।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিবাহ হলেও শুরুতে সুখেরই ছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু বছর খানেক পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

পারমিতা ডাক্তারি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বহিঃরাজ্যে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

স্বামী অমিতাভ তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে বহু অর্থ খরচ করে তাঁকে কলকাতায় ফিজিওথেরাপিস্ট কোর্সে ভর্তি করান।

কোর্স শেষ হওয়ার পর পারমিতা সেখানকার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে চাকরিও পান। এই সময় থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে।

ধীরে ধীরে পারমিতা স্বামী অমিতাভের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক — সর্বত্র থেকে ব্লক করে দেন স্বামীকে।

অমিতাভ জানিয়েছেন, স্ত্রী গভীর রাতে অন্য পুরুষের সঙ্গে ফোনালাপে মগ্ন থাকতেন, যা নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

স্ত্রীর খোঁজে কলকাতায় পৌঁছলে অমিতাভকে পারমিতা সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি আর বাড়ি ফিরবেন না এবং ডিভোর্স চাইছেন।

এরপর অমিতাভ ধর্মনগর আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন দায়ের করেন। আদালত ইতিমধ্যেই উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে কেস গ্রহণ করেছে এবং একাধিক শুনানিও হয়েছে।কিন্তু এখানেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।

গত ৪ জুলাই আদালত থেকে ফেরার পর সন্ধ্যায় পারমিতা কদমতলা থানায় অমিতাভের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অমিতাভের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই কদমতলা থানায় পারমিতা ও তাঁর পিতা সুভাষ নাথের বিরুদ্ধে পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অমিতাভ।

সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “যেখানে আমাদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া আদালতে চলছে, সেখান থেকে ফিরে এসে আবার থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমি সুষ্ঠু বিচারের আশায় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি।” এখন দেখার বিষয়, সমাজে পুরুষরাও কি নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে ন্যায়বিচার পেতে পারেন, নাকি তাঁরা কেবলই অবহেলার শিকার হয়েই থাকবেন?

Leave a Comment