অবশেষে নির্যাতিতা গৃহবধূর পাশে দাঁড়ালো রাজ্য মহিলা কমিশন!

অনলাইন ডেস্ক, ৩০ জুন ২০২৫। বিশালগড় থানার অন্তর্গত পূর্ব চাম্পামুড়া এলাকার সুদীপ দে এর সাথে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল কাঞ্চনমালার দুই নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণধন চৌধুরীর মেয়ে উমা চৌধুরীর।

বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই সুদীপ দে উমা চৌধুরীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এরই মধ্যে গৃহবধূ উমা চৌধুরী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেও সুদীপ দে তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন বন্ধ করেনি বরং দিনের পর দিন উমা চৌধুরীর উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

এই ঘটনা নিয়ে একাধিকবার সালিশি সভাও হয়েছিল কিন্তু তাতেও কোন মীমাংসা হয়নি। এরপর আবারো গৃহবধূ উমা চৌধুরী সন্তান সম্ভবা হয় এবং গর্ভবতী অবস্থায় স্বামী সুদিপ দের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে গৃহবধূ উমা চৌধুরী চলে আসে তার বাবার বাড়িতে।

ইতিমধ্যেই সুদীপ দে আবারো অবৈধভাবে এক মহিলাকে বিয়ে করে ঘরে তুলে। এদিকে গৃহবধূ উমা চৌধুরী এই খবর পেয়ে গত কয়েকদিন আগে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে বসবাস করার জন্য যায়।

তখন সুদীপ দে এবং তার মা গৃহবধূ উমা চৌধুরীকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ সহ তাকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে গত শনিবার নির্যাতিতা গৃহবধূ উমা চৌধুরী বিশালগড় মহিলা থানায় লিখিত মামলা দায়ের করে।

তখন খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিল আমতলী থানার পুলিশ এবং পুলিশ গিয়ে স্বামী সুদীপ দেয় কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের জেরে নড়েচড়ে বসে রাজ্য মহিলা কমিশন।

সোমবার বিকেলে রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপারসন মধুমিতা চৌধুরী এবং কমিশনের কাউন্সিলর মান্না সাহা নির্যাতিতা গৃহবধূ উমা চৌধুরীর বাবার বাড়িতে ছুটে আসে।

মহিলা কমিশনার প্রতিনিধিরা দিন নির্যাতিতার গৃহবধূর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলে এবং গৃহবধূকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, রাজ্য মহিলা কমিশন সব সময় মহিলাদের স্বার্থে কাজ করে আর তাই এখন থেকে নির্যাতিতা উমা চৌধুরীর পাশে থাকবে তারা পাশাপাশি কমিশনের পক্ষ থেকে উমা চৌধুরীকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment