অনলাইন ডেস্ক, ৫ জুন, ২০২৫: কৈলাসহরের রাংরুং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত কালীশাসন চা বাগানে গাড়ি চালককে বেধড়ক ভাবে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় কৈলাসহর থানার পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী।
উল্লেখ্য, গত তেসরা জুন মঙ্গলবার দুপুরে কৈলাসহরের রাংরুং গ্রাম পঞ্চায়েতের কালীশাসন চা বাগান এলাকায় বেপরোয়া ভাবে একটি ওয়াগনার গাড়ি চালিয়ে এক চা বাগান শ্রমিক লগেন উরাংকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি ড্রেনে পড়ে যায়। ফলে গিয়ে গাড়িটি সামনের দিকে আর যেতে না পারায় গাড়ি চালক প্রদীপ দাস এবং গাড়িতে থাকা নির্মল দাস এবং দীপেন দেবনাথ এই তিন বন্ধু একসাথে দৌড়ে কালীশাসন চা বাগানের ভিতরে ঢুকে পরে। দীপেন দেবনাথ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উত্তেজিত গ্রামবাসীরা চা বাগানে ঢুকে গাড়ি চালক প্রদীপ দাসকে পেয়ে বেধড়ক ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে এবং গাড়িটিতে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ চা বাগানের ভিতরে গিয়ে গাড়ি চালক প্রদীপ দাসের মৃতদেহ পেয়ে আইনী প্রক্রিয়া চালায়। গাড়িতে থাকা নির্মল দাস চা বাগানের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পুলুশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
পরবর্তী সময়ে ৪ জুন বুধবার ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে গাড়ি চালক প্রদীপ দাসের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের হাতে তোলে দেয় পুলিশ। অন্যদিকে, তেসরা জুন মঙ্গলবার ঘটনার রাতে গাড়ি চালক মৃত প্রদীপ দাসের বড় ভাই কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ মামলাটি রেজিষ্ট্রি করে তদন্ত শুরু করে এবং পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালীশাসন চা বাগানের ম্যানেজার, রাংরুং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট সমাজসেবী সহ চা বাগান শ্রমিকদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
চা বাগান শ্রমিকদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করায় গোটা কালীশাসন চা বাগানের সমস্ত চা বাগান শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরী হয়। এই ক্ষোভের ফলে শ্রমিক এবং চা বাগানের মালিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি শুরু হয়।
এই খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনী পাঁচ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে কালীশাসন চা বাগানে দিয়ে বাগানের সকল শ্রমিকদের সাথে এক বৈঠক করে। সেই বৈঠকে কৈলাসহর থানার ওসি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শ্রমিক নেতা তথা প্রাক্তন চন্ডীপুর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কর্মী এবং কালীশাসন চা বাগানের ম্যানেজার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কৈলাসহর থানার ওসি স্পষ্ট ভাবেই জানিয়ে দেন যে, তেসরা জুন মঙ্গলবার যখন গাড়ি চালককে হত্যা করা হয় এবং গাড়িতে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তখন যদি সেই ঘটনা কেউ দেখে থাকে কিংবা সেই ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছেন উনারা যদি স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে স্বীকার করে নেয় তাহলে বিষয়টা সাথে সাথেই সমাপ্তি হবে। আর, যতক্ষন অব্দি কেউ নিজে থেকে স্বীকার করবে না কিংবা পুলিশকে সাহায্য সহযোগিতা করবে না ততোক্ষণ অব্দি পুলিশ তদন্তের স্বার্থে চা বাগানের যে কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাবে।
বৈঠক শেষে ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী জানান যে, তেসরা জুন মঙ্গলবার গাড়ি চালক প্রদীপ দাসের হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখন অব্দি সমরজিত গোয়ালা এবং প্রেমজিত গোয়ালা নামে দুই চা বাগান শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই চা বাগান শ্রমিককে পুলিশ ৫জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে কৈলাসহর আদালতে প্রেরণ করেছে। তবে, এই মামলায় আরও কয়েকজন চা বাগান শ্রমিকদের গ্রেফতার হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওসি।








