অনলাইন ডেস্ক, ১৬ জুন, ২০২৬: রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করে ত্রিপুরাকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রাজ্য সরকার শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের উদ্যোগে আজ আগরতলার হোটেল পোলো টাওয়ার্সে দ্বিতীয় ত্রিপুরা রিভার্স বায়ার-সেলার মিট ২০২৬-এর উদ্বোধন করে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা একথা বলেন। আর.এ.এম.পি. বা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের কর্মদক্ষতার উন্নয়ন ও ত্বরান্বিত করার অঙ্গ হিসেবে বায়ার ও সেলার মিট অনুষ্ঠিত হয়।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ত্রিপুরার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্ভাব্য ক্রেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। যার মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক অগ্রগতি, বাণিজ্যিক ভাবে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার নিজস্ব বেশ কিছু গুণমান সম্পন্ন পণ্য ইতিমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমাদৃত হয়েছে। জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত রাজ্যের বিখ্যাত কুইন আনারস, ঐতিহ্যবাহী রিশা, এবং বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন হস্তশিল্পজাত পণ্য রাজ্যের গৌরব বহন করছে।
উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ত্রিপুরায় ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি রাজ্যের বাইরে থেকে আগত ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের ত্রিপুরায় বিনিয়োগ ও স্থানীয় পণ্য সংগ্রহের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক তড়িৎ কান্তি চাকমা এবং তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরের সচিব জেয়া রাগুল গেশন বি, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার। তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন বায়ার এবং সেলার-এর সদস্যরা।
আজকের এই মিটে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ৩৫ জন ক্রেতা এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন এম.এস.এম.ই.-এর ৬৮ জন বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা কৃষিভিত্তিক পণ্য, হস্তশিল্প, বাঁশ ও বেতজাত সামগ্রী, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য সহ বিভিন্ন উৎপাদিত দ্রব্য প্রদর্শন ও বিপণন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিপুরা রিভার্স বায়ার-সেলার মিটে ৩০টি লেটার অব ইন্টেন্ট এবং ২টি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা রাজ্যের এম.এস.এম.ই. ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, আর.এ.এম.পি. কর্মসূচির আওতায় আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ৩৬,০০০ এম. এস.এম.ই. ইউনিটকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।
পাশাপাশি ২,৪০০ জন মডেল উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ব্লক ও পুরসভা স্তরে আর.এ.এম.পি. ডেস্ক চালু করা হবে। এছাড়াও আমাজন এবং জোহো-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচি রাজ্যের যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ধীমান দাস এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে স্থান পাওয়া বিশিষ্ট কারুশিল্পী বিজয় সূত্রধর ও প্রদীপ চক্রবর্তীকে।
তাঁদের হাতে ফুলের তোড়া এবং ৫,০০০ টাকার সম্মাননা চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিগণ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব সব্যসাচী দেববর্মা।








