অনলাইন ডেস্ক, ১৬ জুন, ২০২৬: তপশিলিজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রী ও জনগণের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গৃহীত প্রকল্প ও পরিষেবাগুলির সুবিধা যথাযথভাবে পৌছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন এসসি ওয়েলফেয়ার সাব কমিটির চেয়ারম্যান ও তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
তবেই তপশিলি জাতি সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আজ সোনারতরী রাজ্য অতিথিশালার কনফারেন্স হলে তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় তপশিলিজাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস একথা বলেন। বৈঠকে সর্বশেষ সভায় কি কি অ্যাকশন প্ল্যান নেওয়া হয়েছিল এবং তা কতটুকু বাস্তবায়ণ হয়েছে তার পর্যালোচনা করা হয়।
পর্যালোচনা সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে তপশিলিজাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, রাজ্যে ৩৪টি এসসি সম্প্রদায়ের জনগণ রয়েছেন। আগামীদিনে এই দপ্তরের মাধ্যমে সারা রাজ্যে তপশিলিজাতিদের জন্য কি কি কাজ করা যেতে পারে সে বিষয়ে ওয়েলফেয়ার সাব কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য ও সদস্যাগণেরও মতামত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আজকের পর্যালোচনা সভায় একটি কমপ্রিহেনসিভ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে পুরো রাজ্যে তপশিলিজাতিদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্বরোজগারী ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, এসসি সার্টিফিকেট ও প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনা এই দুটি প্রকল্প চলমান প্রক্রিয়া।
পিএম অজয় এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে গ্র্যান্ট ইন এইড, হোস্টেল নির্মাণ ও দক্ষতা উন্নয়ন এই তিনটি কম্পোনেন্টে বরাদ্দ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্লক ও মহকুমাস্তর থেকে দপ্তরে প্রস্তাব এলে তা বাস্তবায়িত করা হয়। তিনি তপশিলিজাতির কল্যাণে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী তপশিলিজাতি বিকাশ যোজনা, প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ, পোস্ট ম্যাট্রিক স্কলারশিপ, নিউক্লিয়াস বাজেট ও অত্যাচার প্রতিরোধ আইন কার্যকর করতে সাব কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য-সদস্যা ও দপ্তরের আধিকারিকদের সদর্থক ভূমিকা নেবার আহ্বান জানান।
বৈঠকে আলোচনায় অংশ নিয়ে তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার এই দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবা তপশিলিজাতি সপ্রদায়ের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এসসি ওয়েলফেয়ার সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য-সদস্যাদের সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে আলোচনার সূচনা করেন তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা ভাস্বর ভট্টাচার্য।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭,৫৪৫ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে নবম থেকে দশম শ্রেণির ৭৬২৪ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। একাদশ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত ২০,০৯৮ জন ছাত্রছাত্রীকে পোষ্ট মেট্রিক স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। ড. বি আর আম্বেদকর মেধা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ৭১৭২ জন ছাত্রছাত্রীকে। ড. বি আর আম্বেদকর বিশেষ মেধা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ২ জনকে।
বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্সের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭৫ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রথম কিস্তিতে এবং এ প্রকল্পে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৩৫৪ জন ছাত্রছাত্রীকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তপশিলিজাতি বিকাশ যোজনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১৯২৮জন সুবিধাভোগীকে পোল্ট্রি মোরগ, হাঁসপালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে।
ইন্টার কাস্ট ম্যারিজ প্রকল্পে ২৭ টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। পিএম অজয় প্রকল্পে পাবিয়াছড়া এবং রাঙ্গামাটি এসসি গার্লস হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে মহারাজগঞ্জ মৎস্য বাজারের উন্নয়ন, পেচারডহর জলাশয় ও বাতাশীডেকা জলাশয়ের উন্নয়নের কাজ চলছে। তাতে ৭২৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনায় রাজ্যের ৩৩টি গ্রামে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম যোজনায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ রূপায়ণে ২৭৪.৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন কোর সাবজেক্টে ৩২টি হোস্টেলের আবাসিকদের শিক্ষাদানের জন্য ১১৯ জন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি এসসি কর্পোরেশনের বিভিন্ন লোন গ্রহীতার কাছ থেকে ঋণ রিকোভারি করার জন্য সাব কমিটির চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক, আগরতলা পুরনিগম, পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত ভিত্তিক এসসি ওয়েলফেয়ার সাব কমিটির চেয়ারম্যান, সদস্য, সদস্যাগণ ছাড়াও তপশিলিজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার, ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা ভাস্বর ভট্টাচার্য, উপ অধিকর্তা প্রদীপ রিয়াং প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনা সভায় বিভিন্ন ব্লক, আগরতলা পুরনিগম, পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত ভিত্তিক এসসি ওয়েলফেয়ার সাব-কমিটির চেয়ারম্যানগণ ও সদস্য-সদস্যাগণ বিভিন্ন সমস্যা ও কাজের রূপরেখা নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।








