জনস্বার্থ সম্পর্কিত ৫ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে জেলা শাসকের নিকট ডেপুটেশন আমরা বাঙালির

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৮ জুন, ২০২৬: আজ জনস্বার্থ সম্পর্কিত পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি দল পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসকের নিকট ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার গ্যাস, জীবনদায়ী বিভিন্ন ঔষধপত্র, ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি ইত্যাদিসহ সব ধরণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির চাপে বাঁচার তাগিদে ত্রিপুরার মানুষ যখন দিশেহারা তখন রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন নারীঘটিত অপরাধ, ড্রাগ তথা নেশা জাতীয় দ্রব্যাদির বাড়বাড়ন্তে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা চরম হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে গত ১০ই জুন শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে মনীষা দাস নামক একজন যুবতী মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও১২ই জুন উদয়পুর মহকুমার আঠারভোলা দারকাথাং এলাকায় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যের মানুষ এখন চরম উৎকণ্ঠায়। উল্লেখিত ঘটনা দুটি ছাড়াও গত দু-তিন মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারীঘটিত আরো অনেকগুলি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে যা রাজ্যবাসী মাত্রই অবগত।

এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের যে কার্যকরী ভূমিকা থাকার দরকার ছিল তা প্রত্যক্ষ বা করায় রাজ্যের মানুষ হতাশ। তাছাড়া বিস্ময়ের ঘটনা হলো- কোন তদন্ত ছাড়াই যেমন শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে মনীষা দাসের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে পুলিশ প্রশাসন অনবরত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তেমনি অতীতে বিভিন্ন সময়ে এজাতীয় বহু ঘটনা রাজ্যবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধী ধরা পড়ছে না এবং যাদের পরিবারের সাথে এই সকল ঘটনা ঘটেছে তারা আর্থিক ভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিক রঙের কারণে সঠিক বিচার পায়নি।

রাজনৈতিক মদতে বা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্যে বহুখুনের আসামী শাস্তির পরিবর্তে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। আর এরাজ্যে ৮০ জুনের গণহত্যা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অপরাধীরা এই রাজ্যে পুরস্কৃত হয়েছে এমন প্রমাণ ভুরি ভুরি রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমরা বাঙালী ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে নিম্নবর্ণিত দাবীসমূহ পূরণের মাধ্যমে নারীঘটিত অপরাধ নিরসন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরোধ ও বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করে বাধিত করবেন- মহাশয়ের কাছে এই প্রার্থনা।

আমাদের দাবী:-
১। অবিলম্বে হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতিকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজে অস্বাভাবিকভাবে মৃত মনীষা দাসের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

২। নারীঘটিত অপরাধে যুক্ত অপরাধীদের কোন রাজনৈতিক রং বিচার না করে স্পেশাল ট্যাঙ্ক ফোর্স গঠনের মাধ্যমে অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্যে প্রয়োজনীয় আইনের সংশোধন করতে হবে।

৩। সমস্ত নেশা বা ড্রাগজাতীয় দ্রব্যের উৎপাদন, বিপনন ও বিক্রয় বন্ধ করতে হবে।

৪। কালোবাজারী দমন, পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, ঔষধপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে হবে।

৫। ব্লকে ব্লকে শিল্প স্থাপন করে রাজ্যের ১০০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬) পুরনিগমের বর্ধিত এলাকায় খালি জায়গার উপর চড়াও হারে যে কর বৃদ্ধি করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

Leave a Comment