প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ মে, ২০২৬: জনজাতি ভাই-বোনদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা লাভের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক জনজাতি ভাই-বোন যাতে সমাজে তাদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা লাভ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তির সদ্ব্যবহারে রাজ্য সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু আজ সকালে প্রজ্ঞা ভবনের ১ নং হলে আয়োজিত “জনজাতীয় পরিমা উৎসব ২০২৬ বীরসা লিভস ইন নিউ ভারত উইক”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ভগবান বীরসা মুন্ডার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এ উপলক্ষে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ডিজিট্যাল ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট (FRA) অ্যাটলাসের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি তিনি ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাটলাসেরও উদ্বোধন করেন এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তর কর্তৃক FRA অ্যাটলাস বুকলেট প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট সম্পর্কিত এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রকল্প নিয়ে নির্মিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও একটি ইন্টারেক্টিভ সেশনের আয়োজন করা হয়, যেখানে রাজ্যপাল এসটি পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ প্রকল্পের সুভিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল বলেন, সপ্তাহব্যাপী এই উদযাপন কেবল একটি স্মারক অনুষ্ঠান নয়, বরং ভগবান বিরসা মুন্ডার চেতনা- জনজাতির অধিকার, বনভূমি ও আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রামের চেতনা- যা আজও একবিংশ শতাব্দীতে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও জীবন্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট বাস্তবায়ন, প্রতিশ্রুতি ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তিগত বনাধিকার (Individual Forest Rights) স্বীকৃত হয়েছে।
রাজ্যপাল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ডিজিট্যাল ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট (এফআরএ) সম্পর্কে বলেন, এটি ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে, যারা প্রযুক্তি ও জ্ঞান সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তিনি বলেন, এই অ্যাটলাস শুধুমাত্র একটি মানচিত্র নয়; এটি একটি কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত-সহায়ক ব্যবস্থা, যা রাজ্য, জেলা, মহকুমা ও গ্রামসভা স্তরে ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রথমবারের মতো রাজ্যে এমন একটি সমন্বিত ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
রাজাপাল ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাটলাসের কথাও উল্লেখ করেন, যা দেশের অন্যতম প্রথম সমন্বিত ডিজিট্যাল জিআইএস-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনজাতি উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিকাঠামো ও সম্পদের মানচিত্রায়ন এবং পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনজাতি উন্নয়ন পরিকাঠামোকে জিও-ট্যাগ করে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল, আশ্রম স্কুল, জেলা ও মহকুমা জনজাতি কল্যাণ দপ্তর, রাজ্য সদর দপ্তর এবং সিন্থেটিক ফুটবল গ্রাউন্ড।
অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, রাজ্যের জনজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দপ্তর নিরন্তর কাজ করে চলেছে। বিশেষত: শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত জনজাতি এলাকাগুলির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে একাধিক প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে শশী কুমার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপালের সচিব ইউ কে চাকমা এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা শুভাশিস দাস।








