প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ মে, ২০২৬। ত্রিপুরা রাজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত আসাম-আগরতলা ৮ নং জাতীয় সড়কের পেঁচারতলের নবীনছড়া কুমারঘাটের কাচারিচড়া ও সিদংচড়া এলাকার একাধিক রাস্তার অংশ এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন। পথ দুর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। নবীনছড়ার কাছাকাছি জাতীয় সড়কের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিশাল বিশাল গর্ত।
বর্ষার জলে সেই গর্তগুলো এখন ছোটখাটো পুকুর। কোথাও কোথাও রাস্তার একাংশ ধসে পড়েছে। পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে পাথর। রাতের অন্ধকারে এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো মানে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে ডেকে আনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে রাস্তার এই বেহাল দশা। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সংস্কারের কোগ্রেসনো উদ্যোগ নেই। প্রতিদিন এই পথে স্কুলের ছাত্রছাত্রী, রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, নিত্যযাত্রী সবাইকেই প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয়।
এই রাস্তায় দিনে দু-তিনটা করে দুর্ঘটনা হচ্ছেই। গত সপ্তাহে একটা লরি উল্টে গেল। বাইক নিয়ে পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙছে মানুষের। আমরা কি মানুষ না? আমাদের জীবনের কি কোনো দাম নেই?”
“গর্ত বাঁচাতে গিয়ে উল্টোদিকের গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তেল খরচ বাড়ছে, গাড়ির পার্টস নষ্ট হচ্ছে। এইভাবে আর কতদিন চলব?”
উল্লেখ্য, এই ৮ নং জাতীয় সড়ক ত্রিপুরার সাথে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল, সবই আসে এই পথ দিয়ে। রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগছে, বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম।
এই বিষয়ে NH -208 নং পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বর্ষা শেষ হলেই দ্রুত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে পারেননি তারা।
প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে প্রশাসনের? নবীনছড়াবাসী এখন তাকিয়ে আছে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দিকে।








