“ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ডিজিটাল অন্ত্যোদয় দিবস ও হেলথকেয়ার ইনোভেশন ফেস্ট ২০২৬

প্রগতি ত্রিপুরা,৭ মে ২০২৬: প্রযুক্তির অগ্রগতি যখন অনেক সময় মানুষের আবেগ ও মানবিকতার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় সমাজের শেষ সারির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এল ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ইতিবাচক বার্তা ফাউন্ডেশন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত হতে চলেছে “ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ডিজিটাল অন্ত্যোদয় দিবস ও হেলথকেয়ার ইনোভেশন ফেস্ট ২০২৬”।

ওইদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। আয়োজকদের বক্তব্য, এটি শুধু একটা অনুষ্ঠান নয়, এটা মানুষের জন্য, বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তিকে আরও সহজ ও মানবিক করে তোলার এক সামাজিক অঙ্গীকার। এই উদ্যোগের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক টেলিমেডিসিন পরিষেবার সরাসরি প্রদর্শনী। উদ্দেশ্য একটাই – পাহাড়, গ্রাম বা দূরবর্তী অঞ্চলের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন। প্রযুক্তি যেন কেবল শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রামের দরিদ্র মানুষের ঘরেও পৌঁছে যায়।

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে “১০ টাকার OPD” পরিষেবা। আয়োজকদের মতে, অনেক সাধারণ মানুষ এখনও অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাই সামান্য খরচে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ মানুষের কাছে এক বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে। এদিন বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে গ্রামীণ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের, যাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়ে “AI মা” ডিজিটাল স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করতে চলেছেন। প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রামের মায়েরা ও মহিলারাই এবার স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার দূত হয়ে উঠবেন।

ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সভাপতি মলয় পীটের কথায়, “এ শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, এটি নারীর আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার নতুন যাত্রা।” অনুষ্ঠানে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় ঐতিহ্য ও দেশাত্মবোধকে তুলে ধরার বিশেষ পরিবেশনা। একদিকে আধুনিক প্রযুক্তি, অন্যদিকে সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ – এই দুইয়ের মিলনেই গড়ে উঠবে এক অনন্য পরিবেশ। প্রায় তিন হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ভর্তি পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। রোগীদের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মলয় বাবু জানান, “অন্ত্যোদয় মানে শুধু উন্নয়নের কথা বলা নয়, সমাজের শেষ মানুষটির পাশে বাস্তবে দাঁড়ানো। প্রযুক্তি তখনই সফল, যখন তা মানুষের চোখের জল মুছতে পারে।” প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই অনুমতি ও সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের সহযোগিতায় এই উদ্যোগকে সফল করার আশাবাদী আয়োজকরা। অনেকের মতে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য মেলা নয় — এটি মানবিকতা, প্রযুক্তি এবং সমাজসেবার এক নতুন দিশা, যেখানে উন্নয়নের আলো পৌঁছবে সেইসব মানুষের কাছেও, যাঁরা এখনও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন।

Leave a Comment