প্রগতি ত্রিপুরা, ৫ মে, ২০২৬: এক অবর্ণনীয় ও সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত অভিযোগ উঠে আসলো, কাঠালিয়া ব্লকের অন্তর্গত মাতারবাড়ি গ্রাম থেকে।
ঘটনার বিবরণে অভিযোগ উঠে আসে ৮০ বৎসর বয়স্ক বৃদ্ধা ও ৭০ বৎসর বয়স্ক বৃদ্ধা মহিলার কাছ থেকে। ওরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী, তাদের অভিযোগ এক ছেলে ও তিন মেয়ে ছিল সংসারে। মেয়ে তিনটিকে বেশ কয়েক বছর আগে আর্থিক টানা পড়ার মধ্যেও কোনক্রমে সু-পাত্র দেখে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এক ছেলে, এই ছেলেকে লালন পালন করে বিয়ে করানো হয়েছে। একমাত্র বসত বাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্পত্তি নেই। বর্তমানে এই বয়সে কর্ম করার কোন সাধ্য নেই মা ও বাবার, উভয়ের বার্ধক্য ভাতার উপর নির্ভরশীল। এই টাকা দিয়ে বৃদ্ধ বয়সে উভয়ে ঔষুধ ক্রয় করেই চলতে হয়। কিন্তু খাওয়া পড়ার জন্য ছেলের উপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু, যে প্রত্যাশা নিয়ে ছেলেকে বিয়ে করানো হয়েছে, তাতে প্রত্যাশায় গোবরের বালি!
ছেলে অটো চালক, সারাদিন অটো চালিয়ে বাড়িতে এসে মদ খেয়ে মা-বাবাকে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে! এই ঘটনা শুধু এক দু দিনের নয়! ধারাবাহিক ভাবে বিগত তিন বছর ধরে চলছে। এক দুদিন পরপরই এই সমস্ত কীর্তি কান্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণপ্রিয় ছেলে মনোরঞ্জন পাল। প্রাণপ্রিয় ছেলের পিতার নাম সুনীল পাল (৮০) বছর, গর্ভধারিনী মাতার নাম হিরন বালা পাল (৭০) বছর।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালায় দশ মাস দশ দিন গর্ভধারিনী মা হিরন বালা পালের উপর। কিছুদিন পর পর মাকে বেধড়ক মারধর করে ছেলে। একদিন রাতের বেলা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছেলে। নিরুপায় হয়ে এই বৃদ্ধা মা লাঠি ভর করে আধা কিলোমিটার দূরত্বে বালুছড়া পাড়ায় ইসলাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটায়। নিরুপায় হয়ে কয়েক মাস আগে যাত্রাপুর থানায় একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল।
কিন্তু আরক্ষা দপ্তরের কর্মীরা এই নিয়ে কোন এখনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। নিরুপায় হয়ে সংবাদকর্মীর কাছে দারস্ত হয়েছেন এই গর্ভধারিণী মা ও জন্মদাতা পিতা উভয়েই। সমাজে এই জাতীয় ঘটনা যদিও বিরল! সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশীরা এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর একমাত্র দুঃখ প্রকাশ ছাড়া বিকল্প কিছুই ভাবছেন না। বৃদ্ধা মা ও বাবার একটাই আবেদন, যা কয়েকদিন বেঁচে থাকতে হয় কিভাবে বাঁচব! কোথায় গিয়ে থাকবো, এটাই তাদের কাছে বড় প্রশ্ন বর্তমানে!








