অনলাইন ডেস্ক, ৪ মে, ২০২৬: রাজ্য জুড়ে পদ্ম ফুলের জোয়ারে জোড়া ফুলের সিংহাসন টলে গেছে। পতন কেবল সময়ের ব্যাপার। এর মধ্যেও ভবানীপুরে নিজ আসনে ১৫ রাউন্ড পর্যন্ত ভোটে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ষষ্ঠদশ রাউন্ড শেষে নিজ আসনেও পিছিয়ে পড়লেন তিনি। এগিয়ে গেলেন রাজ্যে বিরোধী দলীয় নেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের খাসতালুক কালীঘাট যে বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরাজয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার এই পতনের পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ উঠে আসছে। আরজি কর মেডিকেল কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
এই ইস্যুটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনমানসে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা এবার ব্যালট বক্সে ফুটে উঠেছে। ভবানীপুরের মিশ্র জনজাতি বা ডেমোগ্রাফিক বিন্যাসকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি নিজেদের ভোট ব্যাংক সুসংহত করতে সক্ষম হয়েছে।
স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া: এবার অত্যন্ত নির্ভীক এবং স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ভোটাররা কোনো চাপ ছাড়াই নিজেদের রায় দিতে পেরেছেন। কেবল ভবানীপুর নয়, সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি প্রায় ২০০টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে। অন্যদিকে, নিজের খাসতালুকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় তৃণমূল শিবিরের জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের ক্ষত ঢাকতে ভবানীপুরকে ঢাল করেছিলেন মমতা, কিন্তু ২০২৬-এ সেই ভবানীপুরই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। ভবানীপুরের ষষ্ঠদশ রাউন্ডের ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ রাউন্ডের ফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, পদ্মফুলের প্রার্থী শুভেন্দু পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৮৬ ভোট। অন্যদিকে জোড়া ফুলের মমতা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৮৩২ ভোট।
সে হিসাবে মমতার চেয়ে ৫৬৩ ভোটে এগিয়ে গেছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি ছিল ভবানীপুরের দিকে। কারণ এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এর আগে কখনো এক আসনে মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা মুখোমুখি হননি। সকালে থেকেই এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছিল। প্রথমেই পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে ছিলেন মমতা। পরে তিনি ১ হাজার ৫৫৮ ভোটে ভোটে পিছিয়ে পড়েন। শুভেন্দু এগিয়ে যান।
তৃতীয় রাউন্ড শেষে ফের মমতা এগিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি ক্রমেই ব্যবধান বাড়িয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। একপর্যায়ে ১৯ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে যান মমতা। এরপর থেকেই ঘুরে দাঁড়ান শুভেন্দু। ষষ্ঠদশ রাউন্ডে এসে শেষ পর্যন্ত মমতাকে পেছনে ফেলতে সমর্থ হলেন তিনি। ভবানীপুরে ৬ষ্ঠ রাউন্ড শেষে এগিয়ে মমতা, শুভেন্দু পিছিয়ে ১৯ হাজার ভোটেভবানীপুরে ৬ষ্ঠ রাউন্ড শেষে এগিয়ে মমতা, শুভেন্দু পিছিয়ে ১৯ হাজার ভোটে।
এ আসনে এখনো ভোট গণনা চলছে। গত কয়েক রাউন্ডের ফলাফলের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শুভেন্দুই শেষ হাসি হাসতে পারেন ভবানীপুরে। এদিকে শুভেন্দুকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হলেও গোটা রাজ্য মিলিয়ে বিজেপির পরীক্ষা এতটা কঠিন মনে হচ্ছে না। শুরুর দিকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও শেষ পর্যন্ত বিজেপি বড় ব্যবধানেই রাজ্য সরকার গঠন করবে বলে মনে হচ্ছে।
সবশেষ খবর বলছে, ২৯৩টি আসনের মধ্যে এরই মধ্যে ১৪৬টি আসনে বিজেপিকে জয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আরও ৬৩টি আসনে তারা এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হয়েছে মাত্র ৫৩টি আসনে। হিসাব বলছে, আর একটিমাত্র আসনে জয় পেলেই বিজেপি শিবির চূড়ান্ত উল্লাসে মেতে উঠতে পারবে। আর ভোটের যে প্রবণতা, তাতে দুই শতাধিক আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই হয়তো উঠবে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন মোদির দলটির হাতে।







