প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ জুন, ২০২৬: রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুক্রবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ। আইন ও অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই এই সুপারিশ কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের আগে রাজ্যে বহু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ১৫,৫৮৯ জন খুন হয়েছেন, যার মধ্যে শতাধিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল বলে দাবি করা হয়। তিনি জানান বিজেপি সরকার গঠনের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কোনো যোগ্য সদস্য থাকলে ‘রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান প্রকল্প’-এর আওতায় তাকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই প্রকল্পটি মোটিফাই করা হয়। শুরুতে এটি ২০১৮ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। মন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক কারণে নিহত পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এ ধরনের নজিরবিহীন প্রকল্প এখনও চালু নেই বলেই আমাদের জানা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পরে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা প্রকল্পটি সংশোধন করে ওই সময়সীমার শর্তটি বাতিল করে দেয়। তিনি বলেন এখানে কিছু নিয়ম রয়েছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কি না তা নির্ধারণ করতে পুলিশ রিপোর্টসহ একাধিক তদন্ত প্রয়োজন। পরিবারের মধ্যে কোনো যোগ্য সদস্য আছেন কি না, তাও যাচাই করা হয়।
সব রিপোর্ট আসার পর আমার সভাপতিত্বে একটি স্ক্রুটিনি কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে আইন বিভাগের সচিব, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ও অধিকর্তা, আইজি পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র বিভাগের একজন প্রতিনিধি থাকেন। এখন পর্যন্ত ৩৮টি আবেদন এসেছে, যার মধ্যে ১৮ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ১১ জনের নাম প্রস্তাবিত হয়েছে। ৫টি আবেদন রাজনৈতিক প্রমাণ না থাকায় বাতিল করা হয়েছে এবং ৪টি আবেদন তদন্তাধীন রয়েছে।






