শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের গার্লস হোস্টেলের কেয়ারটেকার মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানজুড়ে গভীর শোকের ছায়া

প্রগতি ত্রিপুরা, ১২ জুন, ২০২৬: ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গার্লস হোস্টেলের কেয়ারটেকার মনীষা দাসের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র প্রতিষ্ঠানজুড়ে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও পরিচিত মহলে নেমে এসেছে গভীর বিষাদের আবহ। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এইমধ্যেই সামনে এসেছে, মৃত্যুর কিচ্ছুক্ষণ তার এক সহকর্মীর সাথে তার whatsapp chat ও কথোপকথন।

যেখানে তার মানসিক অস্থিরতার কথা তুলে ধরেছেন। গত বুধবার রাতে ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে নিজের ঘরে আত্মহত্যা করেন মণীষা দেবী। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে মেডিকেল কলেজ থেকে প্রয়োজনীয় যাবতীয় জিনিস সংগ্রহ করেছেন। মৃত্যুর পিছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আগে এক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন ও মেসেজ আদান-প্রদানের কিছু স্ক্রিনশট সামনে এসেছে, যেখানে তাঁর মানসিক অবসাদ ও হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়গুলিকে সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মনীষা দেবীর এক সহকর্মী দীপা নামা (+91 88372 64291) জানান, “অনেকদিন পর সে দিন ফোন করেছিলাম। সেদিন রাতে আবার whatsapp chat হয়। কল-ও করেও কথা হয়। আমাকে বলে – ফিরে আয়। খুব একা লাগছে। বাড়িতে কিছু সমস্যা হচ্ছে বলেও জানায়। পরিবার-সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিল। আমি বলেছিলাম – সব ঠিক হয়ে যাবে। একটু সময় দাও। সেই সময়ই ওর বয় ফ্রেন্ড ফোন করে। সন্দেহ হয়ায় আমাকেও কনফারেন্সে নেয়। আমি অল্প কিছু কথা বলার পর বলি যে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা না বাড়িয়ে মিটিয়ে নেবার জন্য।

“পরের দিন সকালেই খারাপ খবরটা পাই,” বলে জানান তিনি। ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মেডিকেল কলেজের সভাপতি মলয় পীট বলেন, “মনীষা দাসের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমরা বিশ্বাস করি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানসিক চাপ, পারিবারিক সংকট কিংবা ব্যক্তিগত যন্ত্রণা অনেক সময় নীরবে একজন মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আজ সময়ের দাবি।

Leave a Comment