প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। জোট সঙ্গীদের অস্বীকার করে না ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য, আগামী এডিসি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২৮টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
কেউ আমাদের উপর এসে দাদাগিরি করবে এই সুযোগ থাকবে না। পার্টনার হিসেবে তাদের যতটুকু দরকার আমরা দিতেও পারি, নাও দিতে পারি- এটা আমাদের উপর নির্ভর করবে। কারণ আমরা কাউকে ছাড়তে চাই না, ভারতীয় জনতা পার্টি জোটধর্ম পালন করে।
কিন্তু আমাদের টার্গেট ২৮। আজ ধলাই জেলার ধুমাছড়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির করমছড়া মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এক যোগদান সভায় অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ সত্যিই আমাদের জন্য একটা আনন্দের দিন। আজ এই জায়গায় ১৪৭ পরিবারের ৫৮৭ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করছেন। আমি তাদের ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই।
আপনারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি ছাড়া কেউ দেশ এবং রাজ্যকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। আপনাদের মাধ্যমে এই এলাকার এবং মন্ডলের শক্তি বৃদ্ধি হবে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিউ ইন্ডিয়া এবং আমাদের নতুন ত্রিপুরা তৈরি করার সাথী হতে যাচ্ছেন আপনারা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এতদিন আমরা কি ধরণের রাজনৈতিক পার্টি ত্রিপুরায় দেখেছি? এরআগে এডিসিতে অনেক সরকার ছিল। সবাই কিন্তু জনজাতি অংশের মানুষের জন্য কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করেছে। যদিও কাজের কাজ কিছুই করেনি। বর্তমানে যারা এডিসির ক্ষমতায় রয়েছে সেই তিপ্রা মথার অবস্থা সবই জানেন আপনারা। লুটপাট চলছে এখন।
আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি ত্রিপুরা সরকার, প্রধানমন্ত্রীর সরকার একটা স্বচ্ছতার সরকার। আগে আমরা দেখতাম যখনই কোন সরকার দিল্লিতে হতো সেখানে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতির সরকার আমরা দেখেছি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন ম্যা খুদ ভি নেহি খায়ুঙ্গা, অর দুসরে কো ভি খানে নেহি দুঙ্গা। ম্যা চৌকিদার হু।
এমন একজন সুযোগ্য অভিভাবকের নেতৃত্বে এখন কেন্দ্রে সরকার চলছে। আর আমাদের রাজ্যেও চলছে। প্রায় ২০/২১টা রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার চলছে এখন। মানুষ বুঝতে পারছেন যে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়া হবে না।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আগে ত্রিপুরায় গুন্ডাগিরির রাজনীতি আমরা দেখেছি। অথচ আজ আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার নিরিখে দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। কিছুদিন আগে পরিসংখ্যানে অপরাধের দিক থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৮.২% হয়েছে রাজ্য।
এখন ত্রিপুরাকে সবাই সম্মানের নজরে দেখে থাকেন। সেটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে আমরা সঠিক দিশায় কাজ করছি। জিএসডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা।
নীতি আয়োগ ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, থানসা থানসা বলে এতদিন একটা সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করা হয়েছে। এখনও হচ্ছে। একটা শৃঙ্খলা নেই। উশৃঙ্খলতার মধ্যে রাজনীতি করা হচ্ছে।
কিন্তু আমরা বলছি এখানে থানসা মানে জাতি থাকবে, জনজাতি থাকবে, মণিপুরী থাকবে, সংখ্যালঘু থাকবে। সবাই মিলে আমরা ত্রিপুরাকে একটা সুন্দর ত্রিপুরা তৈরি করতে চাই। আর সেটাকেই বলে থানসা। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত দিশায় সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস এর লক্ষ্যে সবার জন্য কাজ করছি। কারণ কাউকে ছাড়া কেউ কোনদিন চলতে পারে না।
যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সহ সভাপতি তথা এডিসি সদস্য বিমল চাকমা, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, যুব মোর্চার প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা, ধলাই জেলার সভাপতি পতিরাম রিয়াং, এডিসি সদস্য সঞ্জয় দাস, মন্ডল সভাপতি সঞ্জীব দেববর্মা সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। এদিন সভায় প্রচুর সংখ্যায় জনজাতি অংশের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।








