প্রগতি ত্রিপুরা, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: গান্ধীগ্রামের নবগ্রাম ঘোষপাড়ায় কালীপূজাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর হামলার অভিযোগ উঠল কিছু বিজেপি নামধারী সমাজদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন দু’জন—একজন অটোচালক ও এক মহিলা পূজা উদ্যোক্তা। এলাকাবাসীদের দাবি, পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ নবগ্রাম ঘোষপাড়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলে আসা কালীমায়ের পূজার আয়োজন চলছিল।
সেই সময় পূজামণ্ডপের সামনে একটি অটো দাঁড়িয়ে থাকাকে কেন্দ্র করে অন্য একটি গাড়ির চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। উপস্থিত মহিলারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযোগ, বিলাসবহুল গাড়ির চালক মিঠুন ভৌমিক ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন। এরপরই অটোচালক অনুপ গোপ এবং পূজা উদ্যোক্তা গীতা রানী গোপের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে তাঁদের নরসিংহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে রেফার করা হয় GB হাসপাতালে । দুদিন তাঁরা চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গেছে।
আক্রান্ত অনুপ গোপ ও গীতা রানী গোপ দু’জনেই বিজেপির পুরনো দিনের কর্মী এবং বর্তমানে দলের পৃষ্ঠা প্রধান পদে রয়েছেন বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। ঘটনার পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি এয়ারপোর্ট থানায়-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর রেজিস্টার করা হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত হিসেবে এলাকাবাসীরা মিঠুন ভৌমিক, তাপস ঘোষ ও দীপক ঘোষের নাম উল্লেখ করেছেন।
তাঁদের বিরুদ্ধে জমি মাফিয়া ও নেশা কারবারের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীদের দাবি, ঘটনার এতদিন পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি, এমনকি পূজায় উপস্থিত মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। ফলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ। এলাকাবাসীরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।







