খুনের ১৩ দিন পরও অধরা আসামি! গৃহশিক্ষক স্বাগত ঘোষ হত্যাকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৬ জুন, ২০২৬: ঘটনার বিবরণে জানা যায় ফটিকরায় থানাধীন কাঞ্চনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় গৃহশিক্ষক ২৮ বছর বয়সী স্বাগত ঘোষ ওরফে সাগরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য এখনও কাটেনি। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ভাটি দুধপুর এলাকার একটি জলাশয় থেকে তার মুখ বাঁধা ও গলায় ভারী পাথর ঝুলানো মৃতদেহ উদ্ধার হলেও, ঘটনার ১৩ দিন পরও কোনো মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এরই মধ্যে ঘটনার সিবিআই তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে নিহতের পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্বাগত ঘোষ উচ্চশিক্ষিত যুবক ছিলেন। বিএসসি, এমএসসি ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করলেও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় বাড়িতে টিউশনি করিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৩ জুন নিজের বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

এরপর ৫ জুন কুমারঘাট থানার অন্তর্গত ভাটি দুধপুর এলাকার একটি জলাশয়ে এক যুবকের মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুমারঘাট ও ফটিকরায় থানার পুলিশ যৌথভাবে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহটি স্বাগত ঘোষের বলে শনাক্ত করা হয়।

মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, স্বাগতের মুখ ও গলা শক্তভাবে বাঁধা ছিল এবং গলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের একটি পাথর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ৬ জুন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ডগ স্কোয়াড নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতদিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার কাঞ্চনবাড়িতে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বাগতের মা শিপরা গুপ ঘোষ এবং ছোট ভাই সম্রাট ঘোষ। পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে নেই স্বাগতের বাবা সতিন্দ্র ঘোষ। তিনি বর্তমানে কর্মসূত্রে কুয়েতে অবস্থান করছেন। প্রবাসে থেকেও ছেলের হত্যার বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, স্বাগত ছিলেন বাড়ির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে তারা সরাসরি এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানান এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন যাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির ওপর নজর দিয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করেন।

Leave a Comment