ঊনকোটি মিডিয়া ফোরামের উদ্যোগে কৈলাসহরে গণঅবস্থান, দুই বিধায়ককে গ্রেফতারের দাবি

প্রগতি ত্রিপুরা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: বিজেপির হয়ে নির্বাচিত বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল ও তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা-কে গ্রেফতারের দাবিতে ঊনকোটি মিডিয়া ফোরামের উদ্যোগে কৈলাসহর পুর পরিষদের প্রবেশদ্বারে তিন ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঊনকোটি মিডিয়া ফোরামের সভাপতি মহম্মদ জামাল উদ্দিনের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ঊনকোটি ও উত্তর ত্রিপুরা জেলার বহু সাংবাদিক অংশ নেন।দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই গণঅবস্থানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রণব সরকার, শানিত দেবরায়, সেবক ভট্টাচার্যসহ আগরতলা থেকে আগত একাধিক সাংবাদিক।

ঊনকোটি জেলার পক্ষ থেকে কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন মহম্মদ জামাল উদ্দিন, দেবাশীষ দত্ত, অয়ন মজুমদার,নাজমুল হুসেন ও উত্তম দে প্রমুখ। উত্তর ত্রিপুরা জেলা থেকে অংশ নেন বিশ্বজিৎ সাহা, আব্দুল হান্নান ও কিশোর হোর প্রমুখ। এদিন গণঅবস্থান মঞ্চ থেকে বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রণব সরকার বলেন,“সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ কিংবা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ব্যাহত করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না। অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ হবেই। আমরা যখন আজ কৈলাসহরে এসে পা রেখেছিলাম, তখন এখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা আমাদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন। কিন্তু আমরা সাংবাদিক—আমাদের নিরাপত্তা চাই না। আপনারা এমন স্লোগান দেবেননা। আমাদের লড়াই করার শক্তি রয়েছে এবং সেই সৎ সাহস রয়েছে।

আইনের চোখে সকলেই সমান—দল-মত নির্বিশেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শানিত দেবরায় বলেন,“আজকের এই গণঅবস্থান কেবল দুই বিধায়কের গ্রেফতারের দাবিতে নয়, এটি গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা মানেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—সত্য প্রকাশের পথে কোনো বাধা আমরা মেনে নেব না।

যে কোনও অন্যায়, যে কোনও ক্ষমতার অপব্যবহার—তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক।” কর্মসূচি চলাকালীন সাংবাদিকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলেন। তিন ঘণ্টা ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের পর গণঅবস্থান সমাপ্ত হয়।

Leave a Comment