প্রগতি ত্রিপুরা, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : চুরাইবাড়িতে অবৈধ পাথর কেশার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর নড়েচড়ে বসলো দপ্তর গুলি।শব্দ ও ধুলা দূষণে অতিষ্ঠ জনজীবন, ৫২টি কেশার সিল নথি যাচাই চলছে আরও।
উত্তর ত্রিপুরা জেলার চুরাইবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ পাথর ভাঙার কেশারকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে।
একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে—নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত এসব পাথর ভাঙার মেশিনের কারণে পরিবেশ দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে গুরুতর প্রভাব।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ প্রফেসর মানিক সাহা সরাসরি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরই প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়।
শব্দ ও ধুলা দূষণে নাজেহাল বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশারগুলি চালু থাকলে তীব্র শব্দে আশপাশের পরিবেশ কার্যত বসবাসের অযোগ্য হয়ে ওঠে। দিনরাত বিকট শব্দে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই মানসিক চাপ ও শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।
পাশাপাশি পাথর ভাঙার সময় বিপুল পরিমাণ ধুলো বাতাসে মিশে গিয়ে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও অ্যালার্জির সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত শব্দ ও ধুলাবালির সংস্পর্শে থাকলে কানের সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, এমনকি ফুসফুসজনিত দীর্ঘস্থায়ী রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
ইতিমধ্যেই এলাকায় শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রবীণদের মধ্যে অসুস্থতার প্রবণতা বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। যৌথ অভিযানে ৫২টি কেশার বন্ধ
এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, উত্তর জেলা প্রশাসন এবং ধর্মনগর মহকুমা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় তদন্ত অভিযান।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মোট ১০৩টি পাথর কেশারের মালিকদের বৈধ নথিপত্র প্রদর্শনের জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তদন্তে অধিকাংশ মালিকই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।
এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রথম দফায় ২৫টি এবং পরবর্তীতে আরও ২৭টি — মোট ৫২টি অবৈধ পাথর কেশার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি কেশারগুলির নথিপত্র যাচাই এখনও চলছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যদি আরও আগে পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা অনেকটাই এড়ানো যেত। তাঁদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি পরিদর্শনের পরই দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি। বর্তমানে এলাকাবাসীর আশা—এই অভিযান যেন সাময়িক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ না থাকে। তাঁদের দাবি, অবৈধ পাথর কেশারের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনের এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী ফল দেবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে চুরাইবাড়ির মানুষ।








